রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা সিইও দফতর জানিয়েছে, ভোটার সংক্রান্ত তথ্যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ (voter list logical discrepancy) ধরা পড়ায় প্রায় ৯৪ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারকে নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমার, সুব্রত গুপ্ত এবং মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 13 January 2026 14:06
রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ শুনানি পর্বে পৌঁছেছে। এই ধাপে কার নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় থাকবে, আর কার নাম বাদ পড়তে পারে—তা নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। এরই মধ্যে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা সিইও দফতর জানিয়েছে, ভোটার সংক্রান্ত তথ্যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ (voter list logical discrepancy) ধরা পড়ায় প্রায় ৯৪ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারকে নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তবে শুধুমাত্র নথির অভাবে যেন কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে প্রকৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ না যায়, সে জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে (ECI) দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাঠিয়েছে সিইও দফতর। সূত্রের খবর, মানবিক ও বাস্তব পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই প্রস্তাবগুলি বিবেচনার আর্জি জানানো হয়েছে।
সরকারি পেনশনই হোক প্রমাণ—সিইও দফতরের প্রস্তাব (SIR Pension document)
সিইও দফতরের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, রাজ্যের বহু মহিলা নাগরিকের কাছে এসআইআর-এর জন্য নির্ধারিত ১১টি নথির কোনওটিই নেই। এমনকি ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও তাঁদের নাম পাওয়া যায়নি। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা গিয়েছে, এই মহিলাদের স্বামীরা কেউ রাজ্য, কেউ আবার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁরা নিয়মিত সরকারি পেনশন পাচ্ছেন।
এই প্রেক্ষিতে সিইও দফতরের প্রস্তাব—শুধু প্রয়োজনীয় নথির অভাবে যেন এই মহিলাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়। তাঁদের যুক্তি, সরকারি পেনশনের নথিপত্র নিজেই একটি বিশ্বাসযোগ্য সরকারি দলিল। সেই নথির ভিত্তিতে এই শ্রেণির নাগরিকদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
সন্তানদের এসসি-এসটি সার্টিফিকেট (SC ST certificate)
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কমিশনের নজরে এনেছে সিইও দফতর। রাজ্যে এমন বহু পরিবার রয়েছে, যেখানে সন্তানদের কাছে তফসিলি জাতি বা তফসিলি জনজাতি (SC-ST) শংসাপত্র থাকলেও বাবা-মায়ের কাছে সেই সার্টিফিকেট নেই। অতীতে এই ধরনের নথির প্রয়োজনীয়তা ততটা ছিল না বলেই অনেকেই তা তৈরি করাননি।
সিইও দফতরের মত, আজকের দিনে এসে শুধুমাত্র সার্টিফিকেটের অনুপস্থিতির কারণে বাবা-মায়ের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যৌক্তিক নয়। তাই এই ক্ষেত্রেও বিশেষ ছাড় দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে।
লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি মানেই নাম বাতিল নয় (Logical discrepancy)
আগেই জানা গিয়েছিল প্রায় ১ কোটি ভোটারের তথ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। কমিশনের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, এই অসঙ্গতিগুলি একরকম নয়—কোথাও পারিবারিক সম্পর্ক, কোথাও বয়সের ব্যবধান, আবার কোথাও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত তথ্যের গরমিল রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি মানেই নাম বাতিল নয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নোটিসের জবাব না দিলে বা প্রয়োজনীয় নথি জমা না পড়লে তার প্রভাব পড়তে পারে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায়।
এখন নজর কমিশনের উপর
এসআইআর প্রক্রিয়ার শুনানি চলাকালীন সিইও দফতরের এই দু’টি প্রস্তাব নির্বাচন কমিশন কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে, তার দিকেই তাকিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি প্রকৃত ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত রাখাই যে এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য—সে কথাই জোর দিয়ে তুলে ধরছে সিইও দফতর।