সাম্প্রতিক সময়ে বাংলায় চলা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আলাদা করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ডেরেক ও দোলা। সেই মামলার শুনানিতেই কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 12 January 2026 15:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR West Bengal) সংক্রান্ত মামলায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব তলব করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সোমবার এই মর্মে কমিশনকে নোটিস পাঠিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। তৃণমূল সাংসদ (TMC MP) ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনের (Dola Sen) দায়ের করা মামলার ভিত্তিতেই এই নির্দেশ বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।
এ দিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলায় চলা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আলাদা করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ডেরেক ও দোলা। সেই মামলার শুনানিতেই কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। সাংসদদের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল।
শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গাফিলতি ও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন সিব্বল। তাঁর দাবি, কমিশনের তরফে বহু নির্দেশ আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির বদলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে, যা একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি, বহু ভোটারকে অযৌক্তিক ভাবে ‘সন্দেহভাজন’ হিসেবে চিহ্নিত করে শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সিব্বলের বক্তব্য, কমিশনের যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’র কথা বলা হচ্ছে, তার অনেকটাই বাস্তবে অযৌক্তিক এবং ভিত্তিহীন।
এই সব যুক্তি শোনার পর নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে বিস্তারিত জবাব চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সুপ্রিম কোর্ট। সেই অনুযায়ী কমিশনের উদ্দেশে নোটিস জারি করা হয়েছে। আদালতে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জবাব দেওয়ার জন্য তারা দু’সপ্তাহ সময় চাইছে। তবে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই হলফনামা জমা দিতে হবে।
এদিকে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় গুরুতর গাফিলতি ও প্রশাসনিক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়ে পঞ্চম বার। চিঠিতে সরাসরি অভিযোগ, চলতি সংশোধন প্রক্রিয়ার ফলে সাধারণ মানুষ অযথা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং যোগ্য ভোটারদের নাম বেআইনিভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ছে।
সোমবারের এই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, এসআইআর-এর নামে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তা মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ এবং সংবিধানসম্মত নয়। তাঁর দাবি, শুনানির সময় বহু ভোটার প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেও তার কোনও স্বীকৃতি বা রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। পরে যাচাইয়ের পর্যায়ে সেই নথিগুলিকে ‘খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’ বা ‘রেকর্ডে নেই’ বলে দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।