যাঁরা সরাসরি নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত, এমন কোনও পুলিশ আধিকারিককে নিজের ঘরোয়া জেলা বা দীর্ঘদিন কর্মরত জেলায় রাখা যাবে না।
.jpeg.webp)
সিইও মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 13 January 2026 16:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ( West Bengal Assembly Election) সামনে রেখে রাজ্যের পুলিশকর্মীদের (West Bengal Police) বদলি নিয়ে নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। সেই নির্দেশ কার্যকর করতে রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতরের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর। সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পাঠানো ওই চিঠিতে কমিশনের পুরনো নির্দেশিকা মেনেই দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার কথা বলা হয়েছে।
নবান্নকে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বরের নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁরা সরাসরি নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত, এমন কোনও পুলিশ আধিকারিককে নিজের ঘরোয়া জেলা বা দীর্ঘদিন কর্মরত জেলায় রাখা যাবে না।
বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট মাথায় রেখে ৩১ মে ২০২৬-কে ‘বেস ডেট’ ধরে এই বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে ২০২৬।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নিয়ম বলছে, যেসব পুলিশ আধিকারিক নিজ জেলা বা গত চার বছরের মধ্যে কোনও জেলায় তিন বছর পূর্ণ করেছেন তাঁদের সেই জেলা থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এই হিসাবের ক্ষেত্রে পদোন্নতির পর একই জেলায় কাজের সময়ও ধরা হবে। পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদা ও তার ঊর্ধ্বতন সব আধিকারিকের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য। একই সঙ্গে জেলা বা মহকুমায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বাহিনী মোতায়েনের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের উপরই এই বিধি কার্যকর হবে। তবে কম্পিউটারাইজেশন, স্পেশাল ব্রাঞ্চ বা প্রশিক্ষণ শাখার মতো দফতরে কর্মরত পুলিশ আধিকারিকরা এর আওতার বাইরে থাকবেন।
শুধু তাই নয়, যেসব আধিকারিকের বিরুদ্ধে আগে কোনও নির্বাচন সংক্রান্ত গাফিলতিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বা যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে, তাঁদের কোনওভাবেই নির্বাচনী কাজে যুক্ত করা যাবে না। একই সঙ্গে অবসর নিতে ছয় মাসের কম সময় বাকি থাকলে, তাঁদেরও নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। যদিও এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে জেলা থেকে বদলি করতেই হবে— এমন বাধ্যবাধকতা নেই।
কমিশনের পুরনো নির্দেশিকা অনুসারে, রাজ্যের সব নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে ঘোষণা দিতে হবে— তাঁদের কোনও প্রার্থী বা শাসকদলের গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন নয়। ভুল তথ্য দিলে কড়া বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, বিধানসভা ভোটের আগে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনে বড়সড় রদবদলের পথেই হাঁটতে চলেছে নির্বাচন কমিশন, এমনটাই ইঙ্গিত মিলছে সিইও দফতরের এই চিঠিতে।