এসআইআরের লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সির নামে প্রান্তিক মানুষের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করলেন বাগনানের এআরও।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 January 2026 23:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর (SIR) ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র। লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি (Logical Discrepancy) সংক্রান্ত নির্দেশে আপত্তি তুলে সরাসরি পদত্যাগপত্র পাঠালেন বাগনান বিধানসভা কেন্দ্রের এআরও (AERO) মৌসম সরকার (Mousam Sarkar)। তাঁর অভিযোগ, এই লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সির কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। উল্টে এর মাধ্যমে দেশের একটা বড় অংশের মানুষ, বিশেষ করে প্রান্তিক শ্রেণির ভোটারদের বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। এমন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে তিনি রাজি নন।
৮ জানুয়ারি, বুধবার মৌসম সরকার তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে লিখিত আবেদন পাঠান সংশ্লিষ্ট ইআরও (ERO) অচিন্ত্যকুমার মণ্ডলকে (Achintyakumar Mondal)। ইআরও চিঠির গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন।
মৌসম সরকার বর্তমানে বাগনান ২ নম্বর ব্লকের ব্লক ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (Block Disaster Management) বিভাগের অফিসার। আগামী ১৪ জানুয়ারি থেকে ওই ব্লকে শুরু হওয়ার কথা লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সির শুনানি। সংখ্যাটা প্রায় ২৪ হাজার। তার আগেই এআরও পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
চিঠিতে মৌসম সরকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সির ক্ষেত্রে যেসব নামের বানান বা বয়সে গরমিল দেখানো হচ্ছে, তার বেশিরভাগই পুরনো। ২০০২ সালের তথ্য অনুযায়ী যেসব ভুল ছিল, সেগুলি পরবর্তীকালে সাধারণ মানুষ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) নিয়ম মেনে ৮ নম্বর ফর্ম (Form 8) পূরণ করে সংশোধন করেছেন। সেই কারণেই এখন তথ্যের সঙ্গে অমিল ধরা পড়ছে। বয়সের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি প্রযোজ্য।
এই বিষয়ে মৌসম সরকার বলেন, “দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি, এ ধরনের লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সির কোনও মানে হয় না। পরিকল্পিতভাবে বড় অংশের মানুষের, বিশেষ করে প্রান্তিক শ্রেণির ভোট বাতিল করার চেষ্টা হচ্ছে। সমাধানের নামে যে ১২টি নথি চাওয়া হচ্ছে, এই শ্রেণির মানুষের কাছে সেগুলি নেই। তাঁদের কাছে ভোটার কার্ড (Voter ID), আধার কার্ড (Aadhaar Card) ও রেশন কার্ড (Ration Card) রয়েছে, অথচ সেগুলি গ্রহণ করা হচ্ছে না। এতে বহু মানুষ ভয়ঙ্কর সমস্যায় পড়বেন।”
এই কারণেই বিবেকের তাড়নায় তিনি এআরও পদের দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না বলে জানান মৌসম সরকার। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “আমি দেশের মানুষের সঙ্গে এবং দেশের সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না। তাই এই পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছি।”
এই বিষয়ে হাওড়ার জেলাশাসক পি দীপাপ্রিয়া (P. Deepapriya) কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে প্রশাসনের অন্দরেই এই পদত্যাগপত্র ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে। এসআইআর এবং লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি নিয়ে প্রশ্ন যে শুধু রাজনৈতিক মহলেই নয়, প্রশাসনের ভিতরেও তৈরি হচ্ছে—এই ঘটনাই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত।