সিইও দফতর সূত্রে জানা গেছে, সাতটি জেলা থেকে ইতিমধ্যেই সেই রিপোর্ট জমা পড়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই সাত জেলায় মোট ৬৯টি বহুতল আবাসনের খোঁজ মিলেছে, যেখানে ৩০০ বা তার বেশি ভোটার বসবাস করেন।

মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 9 January 2026 19:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তীব্র আপত্তি রয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। কিন্তু বহুতল আবাসনে বুথ (Highrise Booth) তৈরি করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন (ECI)। আর শুক্রবারের পর সেই সম্ভাবনাই আরও বাড়ল। এই বিষয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে রিপোর্ট তলব করেছিল নির্বাচন কমিশন। শর্ত ছিল - যে সব আবাসনে ৩০০ বা তার বেশি ভোটার থাকেন, তাদের বিস্তারিত তথ্য পাঠাতে হবে।
সিইও দফতর (CEO Office) সূত্রে জানা গেছে, সাতটি জেলা থেকে ইতিমধ্যেই সেই রিপোর্ট জমা পড়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই সাত জেলায় মোট ৬৯টি বহুতল আবাসনের খোঁজ মিলেছে, যেখানে ৩০০ বা তার বেশি ভোটার বসবাস করেন। কয়েক দিন আগেই জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের (DEO) নিয়ে বৈঠক ডেকেছিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের (CEO) দফতর। বৈঠকে হাজির ছিলেন কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়া এবং হুগলি - এই আট জেলার জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা।
৬৯টি বহুতল আবাসনের রিপোর্ট পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। জেলা অনুযায়ী বহুতল আবাসনের সংখ্যা -
দক্ষিণ কলকাতা: ২
উত্তর কলকাতা: ৮
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ২৫
উত্তর ২৪ পরগনা: ২২
হাওড়া: ৪
পূর্ব বর্ধমান: ৩
হুগলি: ৫
কমিশন আগেই জানিয়েছিল যেসব এলাকায় ২৫০ টার বেশি বাড়ি রয়েছে বা যেসব আবাসনে বা বহুতলে অথবা বস্তি এলাকায় ৫০০-র বেশি ভোটার রয়েছে, সেইসব এলাকায় সমীক্ষা করে রিপোর্ট দিতে হবে। তবে কলকাতা সহ শহরতলী বা বড় বড় শহরের ক্ষেত্রে কোনও আবাসনে যদি ৩০০-র বেশি ভোটার থাকে তাহলে সেখানেও এমন ভোটকেন্দ্র করার বিষয়ে রিপোর্ট দিতে হবে। অবশেষে সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা পড়েছে।
প্রসঙ্গত, বেসরকারি আবাসন কমপ্লেক্সের (Private Complex) ভিতরে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (ECI Ganesh Kumar) চিঠিও দেন তিনি।
মমতার যুক্তি - ভোটকেন্দ্র সবসময় সরকারি বা আধা-সরকারি ভবনে স্থাপিত হওয়াই নিয়ম। এতে জনসাধারণের সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়। বেসরকারি প্রাঙ্গণ ব্যবহারে প্রশ্ন উঠতে পারে নিরপেক্ষতার। ‘সুবিধাভোগী’ বনাম ‘অসুবিধাভোগী’ - এই বিভাজন তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও তারপরও নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে নড়েনি কমিশন।