এছাড়াও রাজ্যের কোথাও ইচ্ছাকৃতভাবে বিএলওদের ভুল নোটিস পাঠানোর ঘটনা সামনে এলে এফআইআর পর্যন্ত করা হতে পারে, এদিন কমিশনের সূত্র তেমনই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 7 January 2026 20:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিতর্কের আবহেই নাটকীয়তা। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে (Amartya Sen) এসআইআরের (SIR) শুনানির নোটিস পাঠানোকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কে (SIR notice controversy) রাশ টানতে তৎপর হল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।
কমিশনের তরফে এ দিন জানানো হয়, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় অমর্ত্য সেনের নাম নেই। তাঁর হয়ে নথিপত্র জমা দেন ভাইপো শান্তভানু সেন। কমিশনের দাবি, সেন পরিবারের পক্ষ থেকে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, সেখানে কেবল মায়ের নথি রয়েছে, বাবার কোনও তথ্য নেই। উপরন্তু, জমা দেওয়া কাগজে অমর্ত্য সেন ও তাঁর মায়ের বয়সের ব্যবধান দেখানো হয়েছে মাত্র ১৫ বছর, যা কমিশনের ভাষায়, “সাধারণত প্রত্যাশিত নয়।”
এই অসঙ্গতিই খতিয়ে দেখতে আগামী ১৬ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় অমর্ত্য সেনের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টির সুষ্টু সমাধান করবেন বিএলও (BLO)। একইসঙ্গে ইঙ্গিত, বিএলও-র ত্রুটি প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। এছাড়াও রাজ্যের কোথাও ইচ্ছাকৃতভাবে বিএলওদের ভুল নোটিস পাঠানোর ঘটনা সামনে এলে এফআইআর পর্যন্ত করা হতে পারে, এদিন কমিশনের সূত্র তেমনই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার। বীরভূমের রামপুরহাটের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, “অমর্ত্য সেন, দেব, মহম্মদ শামি, যাঁরা দেশ-রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করেছেন, তাঁদেরও নোটিস দিয়ে ‘আনম্যাপড’ করার চেষ্টা হচ্ছে।” সেই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক, চাপ বাড়ে কমিশনের উপর।
এই পরিস্থিতিতে সেন পরিবারের ক্ষোভ স্পষ্ট। পরিবারের ঘনিষ্ঠ মহলের অভিযোগ, “এটি নিছক হয়রানি।”অর্মত্য সেনের ভাইপো শান্তভানু সেনের বিস্ময়ভরা প্রতিক্রিয়া, “সকলেই জানেন অমর্ত্য সেন কে। এত বয়স্ক একজন মানুষকে এভাবে বারবার ডেকে হয়রানি— বলার ভাষা নেই।”
অমর্ত্য সেন বর্তমানে বোলপুর পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার। তবে কাজের সূত্রে বছরের বেশির ভাগ সময়ই দেশের বাইরে থাকেন। তৃণমূলের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়া “প্রহসনে” পরিণত হয়েছে। বিশিষ্ট ব্যক্তিকেও “কাদায় নামানোর চেষ্টা”— অমর্ত্য সেনকে ঘিরে এই নোটিস তারই দৃষ্টান্ত বলে দাবি শাসকদলের। আর বিতর্কের জেরে নোটিসের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই ব্যাখ্যা দিল কমিশন।