তবে কারও গায়ে হাত না তোলার বিষয়েও সতর্ক করে দেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তিনি বলেন, "বেঁধে রাখবেন, গায়ে হাত দেবেন না। আমরা কারও গায়ে হাত তোলায় বিশ্বাসী না।"

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 29 October 2025 17:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগরপাড়ায় ( Agarpara) বছর সাতান্নর প্রৌঢ় প্রদীপ করের (Pradip Kar) ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। এবার একই আতঙ্কে কোচবিহারের দিনহাটায় আরও এক ব্যক্তি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে বুধবার দুপুরে আগরপাড়ায় নিহত প্রদীপ করের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে জানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
একই সঙ্গে এলাকার মানুষকে আশ্বস্ত করে অভিষেক বলেন, আমরা থাকতে বাংলায় এনআরসি বা এসআইআরের নাম করে একজনও প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দিতে দেব না।
হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, "আমি লজ্জিত, একটা রাজনৈতিক দল এতটা নীচে নামতে পারে! প্রদীপবাবু পরিষ্কারভাবে লিখে গেছেন, 'আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী এনআরসি', এরপরও বিজেপি রাজনীতি করছে। তাই বলব, এলাকায় বিজেপির নেতারা এলে তাঁদের ঘিরে ধরবেন, বেঁধে রাখবেন, জানতে চাইবেন- 'বাবা ঠাকুরদার সার্টিফিকেট নিয়ে আয়, তারপরে প্রচার করতে আসবি'।"
তবে কারও গায়ে যেন হাত না তোলা হয়, এ বিষয়েও সতর্ক করে দেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তিনি বলেন, "বেঁধে রাখবেন, গায়ে হাত দেবেন না। আমরা কারও গায়ে হাত তোলায় বিশ্বাসী না।"
প্রদীপ করের মৃত্যুর জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং দেশের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নামে কেন এফআইআর দায়ের হবে না, মঙ্গলবারই সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন অভিষেক। এদিন তিনি জানান, 'এখন বাংলায় একটাই স্বর, জাস্টিস ফর প্রদীপ কর', এই দাবিতে আগামীকাল রাজ্য জুড়ে তৃণমূল প্রতিবাদ মিছিল করবে।
নিহত প্রদীপ করের পরিবারকে আশ্বস্ত করে বলেন, "আমরা আপনাদের পাশে আছি। এখানে দাঁড়িয়ে বলে যাচ্ছি, যাদের জন্য মৃত্যু হয়েছে তাদের জেলে পাঠাবই।"
এদিনও শাহ-কমিশনকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, "অমিত শাহ-জ্ঞানেশ কুমারের বাবার নাম আছে ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে, দেখাতে পারবেন? যাঁরা কমিশনের কর্মী, তাঁদের সকলের বাবা, ঠাকুরদার নাম আছে ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে?"
বাংলায় বার বার হারের প্রতিশোধ নিতে এবারে ভোটার লিস্ট থেকে প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দিতে বিজেপি কমিশনকে 'ব্য়বহার' করছে বলে অভিযোগ করে অভিষেক বলেন, "এসআইআর, এনআরসির নাম করে এরা একটা নামও বাদ দিলে এক লক্ষ লোক নিয়ে দিল্লিতে ঘেরাও করব, কত ধানে কত চাল এবার বোঝাব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকতে বাংলা থেকে একটা নাম বাদ যাবে না। আমার বুকের রক্ত দিয়ে হলেও তা রক্ষা করব।"