দলের এক নেতার কথায়, “বীরভূমের কেষ্ট যদি ‘এসআইআর ভাল’ বলেন, তাহলে মাঠে কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো অস্বাভাবিক নয়। এতে বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারে।”

অনুব্রত মণ্ডল।
শেষ আপডেট: 29 October 2025 14:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mandal, TMC Leader) মন্তব্যে নতুন করে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। যেখানে দল শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) Special Intensive Revision (SIR) প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় সরব, সেখানে অনুব্রতর গলায় উঠল একেবারে উল্টো সুর, “এসআইআর চালু হোক না, এতে অসুবিধা কী আছে? এসআইআর হলে তো ভালই হবে, খারাপের কিছু নেই।”
তাঁর এই মন্তব্যে স্বভাবতই চাপে পড়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। কারণ, কয়েক দিন আগেই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেছিলেন, “শুধু বাংলায় SIR কেন? কমিশন আসলে রাজ্যের প্রশাসন নিজের হাতে নিতে চাইছে।” এসআইআর ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তারই মধ্যে কেষ্টর উল্টোসুর নিয়ে নীচুতলার কর্মীরা বিভ্রান্ত।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার থেকে নির্বাচন কমিশন বাংলা-সহ ১২টি রাজ্যে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) শুরু করেছে। কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখাই উদ্দেশ্য। কিন্তু তৃণমূলের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার আড়ালে বিজেপি এবং কেন্দ্র সরকার রাজ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের মতে, অনুব্রত মণ্ডলের মতো অভিজ্ঞ জেলা নেতার এই মন্তব্য দলের বার্তাকে দুর্বল করতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, “এই সময়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট— কমিশনের উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ। সেখানে অনুব্রতদার বক্তব্য ভুল বার্তা দিচ্ছে।”
দল সূত্রে খবর, অনুব্রতর মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব আলোচনা শুরু করেছে। এটি তাঁর ব্যক্তিগত মত নাকি ইঙ্গিতবাহী অবস্থান— সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসআইআর ইস্যুতে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেকের আক্রমণাত্মক অবস্থানের মাঝখানে অনুব্রতর নরম সুর নিঃসন্দেহে দলের জন্য অস্বস্তিকর। দলের এক নেতার কথায়, “বীরভূমের কেষ্ট যদি ‘এসআইআর ভাল’ বলেন, তাহলে মাঠে কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো অস্বাভাবিক নয়। এতে বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারে।”
এখন দেখার অনুব্রতর উল্টো সুর নিয়ে দল কী পদক্ষেপ করে। আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। কারণ, দলের ভিতর থেকে ভিন্নমত, বাইরে কমিশন-বিজেপি বিরোধ— এসআইআর ইস্যু এখন তৃণমূলের কৌশলগত পরীক্ষার মুখে।