কমিশনের (Election Commission) দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী সোমবার বিকেল পর্যন্ত মৃত ভোটারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৩ লক্ষ ৯৮ হাজার ৩৪৫।
.jpeg.webp)
সিইও মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 8 December 2025 21:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় এসআইআর (SIR West Bengal) পর্বে আন-কালেক্টেবল ফর্মের (Un Collectable Form) সংখ্যা বেড়ে হল ৫৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৩১। আর সেই হিসেবে কমিশনের (Election Commission) দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী সোমবার বিকেল পর্যন্ত মৃত ভোটারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৩ লক্ষ ৯৮ হাজার ৩৪৫।
এখন ভোটারদের মনে প্রশ্ন উঠতে পারে, এই আন-কালেক্টেবল (Uncollectable Form) বলতে ঠিক কাদের কথা বলা হচ্ছে। কমিশন (election Commission) আগেই জানিয়েছিল, যারা মৃত, পাওয়া যায়নি বা অনুপস্থিত, পার্মানেন্টলি শিফটেড অর্থাৎ যাঁরা স্থায়ীভাবে সরে গিয়েছে, আগেই এনরোল করা ছিল বা নাম ছিল এবং অন্যান্যদের মিলিয়ে এই আন-কালেক্টেবল। অর্থাৎ খসড়া তালিকায় এদের নাম থাকবে না।
দেখে নেওয়া যাক কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান
স্থানান্তরিত ভোটার- ১৯ লক্ষ ৬৪ হাজার ৬২৯
নিখোঁজ ভোটার- ১০ লক্ষ ৯৪ হাজার ৭১০
ডুপ্লিকেট ভোটার- ১ লক্ষ ৩২ হাজার ২১৫
অন্যান্য- ৪৭ হাজার ৮৩২
কমিশনের বক্তব্য, যেহেতু এখনও একাধিক জেলায় এখনও আন কালেক্টেবল ফর্মের সংখ্যাটা আপলোড করা হচ্ছে না, তাই স্বাভাবিকভাবেই আসল সংখ্যাটা পাওয়া যাচ্ছে না। যে কারণে বেশ কয়েকজন বিএলও-র কাজের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন দিল্লির নিয়োগ করা স্পেশ্যাল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত (Subrata Gupta)।
কমিশন খবর পেয়েছে, অনেক জায়গায় তিনবার করে ভিজিট করার পরেও চূড়ান্ত তালিকা আপলোড করতে দেরি করছেন বেশ কিছু বিএলও। এমনও খবর পাওয়া গিয়েছে যে স্থানীয় প্রশাসনের কর্তারাই নাকি বিএলও-দের বলছেন এখন কিছু আপলোড করার দরকার নেই, একেবারে শেষ মুহূর্তে যখন বলা হবে তখন করলেও হবে। যা নিয়ে অত্যন্ত বিরক্ত প্রকাশ করেন স্পেশ্যাল অবজার্ভার। ঘুরিয়ে জানতেও চেয়েছিলেন, ঠিক কার নির্দেশের অপেক্ষা করছেন বিএলও-রা। কমিশনের বক্তব্য, এই আপলোডের প্রসেস যত তাড়াতাড়ি মিটবে, তত স্পষ্ট হবে বাংলার মৃত ভোটারের আসল সংখ্যাটা।
বস্তুত, ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR West Bengal) পর্বে আরও কঠোর নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। গত শুক্রবারের বৈঠকেই যার ইঙ্গিত মিলেছিল। সোমবার সকালেই সেই ইঙ্গিতকে বাস্তবায়িত করে কমিশন নতুন নির্দেশিকা জারি করল। পাঁচ ডিভিশনে পাঁচজন শীর্ষস্থানীয় আইএএস অফিসারকে স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভার (Special Roll Observer) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। যাঁদের প্রত্যেকেই কেন্দ্রের মন্ত্রকের যুগ্মসচিব।
কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, এই পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব থাকবে তিনটি বিষয়ে কঠোর নজরদারি চালানো—
১) কোনও যোগ্য নাগরিক যাতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়েন।
২) কোনও অযোগ্য ব্যক্তি যাতে তালিকায় ঢুকতে না পারেন।
৩) দাবি–আপত্তি থেকে গণনা, নোটিস নিষ্পত্তি এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ— প্রতিটি ধাপে কঠোর পর্যবেক্ষণ।
সংবিধানের ৩২৪(৬) ধারা অনুযায়ী নিযুক্ত এই পর্যবেক্ষকরা পুরো প্রক্রিয়া চলাকালীন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকবেন।
এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কোন ডিভিশনে কোন পর্যবেক্ষক?