বিএলও-রা তো তথ্য যাচাই করবেন, কিন্তু সাধারণ মানুষ 'আসল' বিএলও যাচাই করবেন কীভাবে? তার জন্য রয়েছে সহজ উপায়। জাতীয় নির্বাচন কমিশন কোনও রকম বিভ্রান্তি বা হয়রানি যাতে না হয়, তার জন্য পরিষ্কার নির্দেশিকা দিয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 4 November 2025 03:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যজুড়ে (West Bengal) ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের (SIR) কাজ শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার থেকে। নির্বাচন কমিশনের (ECI) নির্দেশ অনুযায়ী, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য যাচাই করবেন বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO)। নতুন নাম সংযোজন, ঠিকানা সংশোধন কিংবা মৃত ভোটারের নাম বাদ - সব ক্ষেত্রেই তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
বিএলও-রা তো তথ্য যাচাই করবেন, কিন্তু সাধারণ মানুষ 'আসল' বিএলও (Original BLO) যাচাই করবেন কীভাবে? তার জন্য রয়েছে সহজ উপায়। জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI) কোনও রকম বিভ্রান্তি বা হয়রানি যাতে না হয়, তার জন্য পরিষ্কার নির্দেশিকা দিয়েছে।
'আসল' বিএলও চিনবেন কীভাবে?
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী প্রকৃত বিএলও চেনার তিনটি স্পষ্ট চিহ্ন থাকবে।
১) সরকারি পরিচয়পত্র - কমিশন-প্রদত্ত আইডি কার্ড থাকবে, যাতে থাকবে কিউআর কোড। স্ক্যান করলে দেখা যাবে অফিসারের নাম, ফোন নম্বর ও বুথ সংক্রান্ত তথ্য।
২) এসআইআর কিট ব্যাগ ও নথিপত্র - বিএলওদের হাতে থাকবে বিশেষ কিট ব্যাগ, ছাপানো এনুমারেশন ফর্ম ও অন্যান্য নথি।
৩) সরকারি টুপি - কমিশনের দেওয়া বিশেষ ক্যাপ পরে থাকবেন তাঁরা।
পাশাপাশি, কমিশনের অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে নিজের এলাকার বিএলও সম্পর্কে তথ্য যাচাই করা যাবে। সেখানে রয়েছে ‘Book a Call with BLO’ এবং ‘Connect with Election Officials’ - এই দুটি বিকল্প।
কতজন বিএলও কাজ করবেন?
রাজ্যজুড়ে মোট ৮০ হাজার ৬৮১ জন বিএলও মাঠে নামছেন। সঙ্গে থাকবেন অতিরিক্ত ১৪ হাজার কর্মী। ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র মিলিয়ে ভোটারদের হাতে পৌঁছবে ৭ কোটি ৬৬ লক্ষের বেশি ফর্ম - যার দ্বিগুণ সংখ্যায় ফর্ম ছাপানো হয়েছে।
মঙ্গলবার থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিটি বাড়িতে অন্তত একাধিকবার যাবেন বিএলও। হাতে থাকবে এনুমারেশন ফর্ম, যা পূরণ করাতে হবে ভোটারদের। কেউ বাড়িতে না থাকলে চিন্তার কারণ নেই—প্রয়োজনে তিন-চার বার পর্যন্ত ফেরত আসবেন তাঁরা।
এসআইআর চলাকালীন ভোটারদের কাছে স্পষ্ট বার্তা - কোনও সন্দেহ হলে তথ্য মিলিয়ে নিন, অফিসারের পরিচয় যাচাই করুন এবং ভুয়ো ব্যক্তির দেখা মিললে সঙ্গে সঙ্গে কমিশনে জানান। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সতর্ক থাকাই প্রধান লক্ষ্য।