কমিশনের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজ্যে হুলস্থূল পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে প্রশাসনের।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 15 December 2025 19:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) জন্য ফর্ম জমা নেওয়া শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার খসড়া তালিকা (SIR draft list West Bengal) প্রকাশ হবে।
তার আগে কমিশন সূত্রে বলা হচ্ছে, ফর্মে গরমিলের জন্য ১ কোটি ৯০ লক্ষ ভোটারের কাছে নোটিশ পাঠানো হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে আনম্যাপড ৩০ লক্ষও। এতে শুনানির জন্য ডেকে নথি দেখতে চাওয়া হবে। কমিশনের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজ্যে হুলস্থূল পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে প্রশাসনের।
কাদের কাছে নোটিস যাচ্ছে? (SIR in West Bengal, Who may get notice)
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে নাম নেই বা সেই ভোটার তালিকায় বাবা, মা, দাদু, দিদা বা পরিবারের কারও নাম নেই, এমন ২৪ লক্ষ ২১ হাজার ১৩৩ জনকে শুনানিতে ডাকা হতে পারে। যাদের বয়স ৪৫ বছরের বেশি এমন ২০ লক্ষ ৭৪ হাজার ২৫৬ জনকেও নোটিস দিয়ে ডাকা হবে।
৪৫ বছর কেন? কারণ, যাঁদের বয়স এখন ৪৫ তাঁদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকার কথা। ২৩ বছর আগে শেষ বার এসআইআর হয়েছে রাজ্যে। কারও বয়স এখন ৪৫ হলে ২০০২ সালে তাঁর বয়স ছিল ২২ বছর। ১৮ বছর বয়সে ভোটার তালিকায় নাম ওঠার কথা। কিন্তু ৪৫ বছর বয়স হলেও যাঁদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল না বা ২০০৬ সালে বিধানসভা ভোটের সময়ও যাঁদের নাম ভোটার লিস্টে ওঠেনি, তাঁদের নিয়ে কমিশনের সন্দেহ রয়েছে।
বাবার নামে অসঙ্গতি রয়েছে এমন ৮৫ লক্ষ ১ হাজার ৪৮৬ জনকে ডাকা হতে পারে শুনানিতে। আবার বাবার বয়স নিয়ে ধন্দ রয়েছে এমন ভোটারের সংখ্যাও প্রায় ২০ লক্ষ। তাঁরাও নোটিস পেতে পারেন।
এর মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ১১ লক্ষ ৯৫ হাজার ২৩০ জন ভোটারের ক্ষেত্রে বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক মাত্র ১৫ বছর। একইভাবে বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক ৫০ বছর এমন ভোটারের সংখ্যা ৮ লক্ষ ৭৭ হাজার ৭৩৬।
এছাড়াও ৩ লক্ষ ২৯ হাজার ১৫২ জনের ক্ষেত্রে ভোটার লিস্টে ঠাকুরদার সঙ্গে বয়সে গোলমাল রয়েছে। একইভাবে ১৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ৯১৮ জন ভোটারের ক্ষেত্রে লিঙ্গ সংক্রান্ত ভুল তথ্য রয়েছে।
তবে কমিশন সূত্রে বলা হচ্ছে, হেয়ারিংয়ে ডাকা মানেই নাম বাদ পড়বে এমন কোনও বিষয় নেই। যাদের ডাকা হচ্ছে তাদের অনেকের ক্ষেত্রেই টেকনিক্যাল সমস্যার জন্য তথ্যগত ভুল থাকতে পারে। তবে যাদের নথি সংক্রান্ত সমস্যা থাকবে অর্থাৎ প্রয়োজনীয় নথি দাখিল করতে পারবেন না তাদের নাম বাদ যাবে।
এক্ষেত্রে কমিশনের পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত আগেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, কেউ অসত্য নথি জমা দিলে তাঁর এবং যিনি সেই নথি অনুমোদন করছেন, সেই দু'তরফকেই পড়তে হবে শাস্তির মুখে।