যিনি জাল তথ্য দিয়ে ডমিসাইল সার্টিফিকেট পেয়েছেন তাঁর যেমন সাজা হতে পারে, যিনি সেই শংসাপত্র দিয়েছেন, তাঁকেও কৈফিয়ত দিতে হবে বলে কমিশন সূত্রে সাফ জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত।
শেষ আপডেট: 13 December 2025 09:00
খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর শুনানি পর্বে যাঁদের ডাকা হবে, তাঁদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী ১১ ধরনের নথির মধ্যে যেকোনও একটি দেখাতে হবে। কমিশন (Election commission observer) ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছে—এসব নথির যেকোনও একটি বৈধ হলেই তা গ্রহণযোগ্য হবে।
তবে নতুন একটা প্যাঁচ তৈরি হয়েছে ডমিসাইল সার্টিফিকেট (Mistakes in domicile certificate) নিয়ে। সেই শংসাপত্র ভিত্তিহীন হলে কঠোর ব্যবস্থার পথে হাঁটতে পারে নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঠারেঠোরে তার ইঙ্গিত দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত।
অর্থাৎ যিনি জাল তথ্য দিয়ে ডমিসাইল সার্টিফিকেট পেয়েছেন তাঁর যেমন সাজা হতে পারে, যিনি সেই শংসাপত্র দিয়েছেন, তাঁকেও কৈফিয়ত দিতে হবে বলে কমিশন সূত্রে সাফ জানানো হয়েছে।
শুনানিতে কোন ১১টি নথি দেখাতে হবে?
১. কেন্দ্র/রাজ্য সরকার বা সরকারি সংস্থা (PSU)–এর নিয়মিত কর্মী বা পেনশনভোগীর পরিচয়পত্র/পেনশন পেমেন্ট অর্ডার
২. ০১.০৭.১৯৮৭ সালের আগে সরকার, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, LIC অথবা PSU-র দেওয়া কোনও পরিচয়পত্র/সনদ/নথি
৩. জন্ম শংসাপত্র
৪. পাসপোর্ট
৫. মাধ্যমিক বা স্বীকৃত অন্যান্য বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত শংসাপত্র
৬. উপযুক্ত রাজ্য কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত স্থায়ী আবাসিকের শংসাপত্র (ডমিসাইল)
৭. বনাধিকার শংসাপত্র
৮. জাতি শংসাপত্র (SC/ST/OBC বা অন্যান্য), যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারি
৯. NRC–সংক্রান্ত নথি (যেখানে প্রযোজ্য)
১০. রাজ্য বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারি পরিবার নিবন্ধন নথি
১১. সরকার জারি করা জমি বা বাড়ি বরাদ্দের সনদ (বা সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি)
ডমিসাইল সার্টিফিকেট কে ইস্যু করবেন?
শুক্রবার এ ব্যাপারে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে। স্থায়ী আবাসিকের শংসাপত্র বা ডমিসাইল সার্টিফিকেট কে ইস্যু করলে কমিশন তা গ্রহণ করবে?
জবাবে সুব্রতবাবু দ্য ওয়ালকে বলেন, “ওই সনদ বা শংসাপত্র ইস্যুর ক্ষেত্রে যে রুলস রয়েছে, তাতে সাধারণত মহাকুমা শাসক (SDO), অতিরিক্ত জেলা শাসক (ADM) এবং জেলা শাসক (DM) ডমিসাইল সার্টিফিকেট দিয়ে থাকেন। অবশ্যই সমস্ত নির্ধারিত এনকোয়ারি করেই তাঁরা তা দেন। নিয়ম মেনে জারি হলে সেই শংসাপত্র অবশ্যই গ্রহণযোগ্য।”
তাঁকে আরও প্রশ্ন করা হয়—SIR চলাকালীন এখন কেউ যদি SDO–র মাধ্যমে নতুন ডমিসাইল সার্টিফিকেট তোলেন, সেটিও কি গ্রহণযোগ্য হবে?
সুব্রতবাবুর স্পষ্ট উত্তর, “যিনি সার্টিফিকেট ইস্যুর অথরিটি, তিনি যদি নিয়মে বর্ণিত সমস্ত এনকোয়ারি করে নিশ্চিত হয়ে সার্টিফিকেট দেন এবং তা সার্টিফাই করেন—তাহলে সেটি গ্রহণযোগ্য।”
জাল শংসাপত্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, আসছে কমিশনের বিজ্ঞপ্তি
কমিশন সূত্রে খবর, ডমিসাইল বা অন্যান্য নথি যাতে কেউ ‘মুড়ি মুড়কির মতো’ ইচ্ছেমতো ইস্যু না করে বা জাল নথি জমা না দেয়, তার জন্য খুব শীঘ্রই কমিশন একটি কড়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকবে—যদি কোনও কর্মকর্তা জাল সার্টিফিকেট ইস্যু করেন, বা কোনও ব্যক্তি জাল নথি জমা দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁর সর্বোচ্চ ৭ বছরের জেল হতে পারে।