বিজেপি বিধায়ক জানান, ৩১ অক্টোবরের বৈঠকে তৃণমূল প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে এসআইআর প্রক্রিয়াকে সমর্থন করেছিলেন। অথচ এখন বাইরে গিয়ে তাকে এনআরসি বলে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছেন।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 8 November 2025 12:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর (SIR) নিয়ে ফের রাজ্যের (West Bengal) শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC) আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর অভিযোগ, একদিকে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, অন্যদিকে তৃণমূল নেতারা নিজেরাই এনুমারেশন ফর্ম (Enumeration Form) নিচ্ছেন। এমনকী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee) এনুমারেশন ফর্ম নিয়েছেন। শুভেন্দুর সাফ কথা, রাজ্যের মানুষকে এসআইআরের (SIR) সঙ্গে এনআরসি-র (NRC) গুলিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজে বিএলও-র (BLO) কাছ থেকে ফর্ম নিচ্ছেন - এটাই আসল দ্বিচারিতা।
শনিবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, তৃণমূল নেত্রীদের মধ্যে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মালা রায়সহ একাধিক নেতা ইতিমধ্যেই এসআইআরের এনুমারেশন ফর্ম (Enumeration Form) নিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নিজেও এই ফর্ম নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু লাগাতার এসআইআর নিয়ে মানুষকে ভুল বোঝানো চলছে।
শুভেন্দুর প্রশ্ন, “যে মুখ্যমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করছেন, যতক্ষণ না সবাই ফর্ম ফিল-আপ করছে ততক্ষণ তিনি তা করবেন না, সেই মুখ্যমন্ত্রী যখন ‘সমস্ত নাগরিক’ বলছেন, তার মধ্যে কি ভুয়ো ভোটারও রয়েছে?” বিজেপি নেতার দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস আসলে এসআইআর ইস্যুতে রাজ্যের মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।
তাঁর অভিযোগ, “তৃণমূল চায় অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় রাখা হোক। কিন্তু মৃত ভোটার, একাধিক ভোটার কার্ডধারী ও বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদই যাবে। যারা বাংলাদেশ থেকে অত্যাচারিত হয়ে এসেছেন, বিশেষত হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু - তাঁরা যদি সিএএ-র আওতায় আবেদন করেন, তবে তাঁরা সুরক্ষিত।”
বিজেপি বিধায়ক জানান, ৩১ অক্টোবরের বৈঠকে তৃণমূল প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে এসআইআর প্রক্রিয়াকে সমর্থন করেছিলেন। অথচ এখন বাইরে গিয়ে তাকে এনআরসি বলে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, “একদিকে সই করছেন, অন্যদিকে প্রচারে বলছেন এসআইআর মানে এনআরসি। এতেই মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন।”
বিরোধী নেতা অভিযোগ করেন, এসআইআর ঘোষণার পর তৃণমূল শিবির জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, নির্বাচন আধিকারিকদের হুমকি দিচ্ছে, আর বাইরে থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে আক্রমণ করা হচ্ছে। শুভেন্দুর স্পষ্ট কথা - এটা আসলে রাজনৈতিক নাটক, মুখ্যমন্ত্রী মানুষকে বিভ্রান্ত করে রাজ্যের আসল সমস্যা থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিতে চাইছেন।