শুক্রবার ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি থেকে কলেজ স্কোয়ার পর্যন্ত মিছিলের আয়োজন করছিলেন বিজেপির উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার নেতারা।
.jpeg.webp)
শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 7 November 2025 19:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'বন্দে মাতরম'-এর (Vande Mataram) ১৫০ বছর উপলক্ষে বছরব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি (BJP)। শুক্রবার রাজ্যের নেতৃত্ব 'বন্দে মাতরম' উদযাপনে মিছিল করেছে। কিন্তু তা নিয়েও বিতর্ক। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (Bankim Chandra Chatterjee) মূর্তিতে মালা দিতে না পেরে ক্ষুব্ধ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
শুক্রবার ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি থেকে কলেজ স্কোয়ার পর্যন্ত মিছিলের আয়োজন করছিলেন বিজেপির উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার নেতারা। উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), বিজেপির উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ, বর্ষীয়ান নেতা তাপস রায়, সহ প্রমুখ। মিছিল শেষে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মূর্তিতে মালা দেওয়ার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু সেখানেই ঘটে বিপত্তি।
আসলে যে রাস্তা দিয়ে গিয়ে বঙ্কিমচন্দ্রের মূর্তিতে মাল্যদানের কথা ছিল শুভেন্দুর দেখা যায় সেই রাস্তার হাল খুবই খারাপ। পুরো রাস্তা এবড়ো-খেবড়ো, পিচ উঠে গেছে। এই অবস্থা দেখেই শুভেন্দু অভিযোগের সুরে বলেন, পরিকল্পনা করে রাস্তার এই অবস্থা করা হয়েছে যাতে তিনি যেতে না পারেন। বিজেপি কর্মসূচি করতে না পারে। ইচ্ছে করে বৃহস্পতিবার রাতে রাস্তা খোঁড়া হয়েছে।
যদিও এই কারণ দেখিয়ে থেমে থাকেননি শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ওই রাস্তা দিয়ে গিয়েই পৌঁছন বঙ্কিমচন্দ্র স্মৃতি গ্রন্থাগারে। কিন্তু সেখানে আবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ, তিনি আসবেন জানার পরই গ্রন্থাগারের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে অপর্ণা সেন, কৌশিক সেনদের নাম নিয়ে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু।
বিধায়কের বক্তব্য, এখন আর কারও কোনও সাড়াশব্দ নেই। সবাই বাংলা বাংলা বলে চিৎকার করে, কিন্তু এখন বঙ্কিমচন্দ্রকে অপমান করা হচ্ছে, কেউ মুখ খুলছে না। রাস্তার কী অবস্থা, সেটা এসে ওদের দেখে যেতে হয়।
‘বন্দে মাতরম’-এর (Vande Mataram) ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার দিল্লিতে বিশেষ অনুষ্ঠানের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। এদিন তিনি ‘বন্দে মাতরম’-এর এই ঐতিহাসিক রচনাকে স্মরণ করে বিশেষ স্মারক মুদ্রা ও ডাকটিকিট প্রকাশ করেন।
১৮৭৫ সালে নৈহাটির কাঁঠালপাড়ার বাড়িতে ‘বন্দে মাতরম’ লিখেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (Bankim Chandra Chatterjee)। পরে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে এটিকে জুড়ে দেন লেখক। ১৮৮২ সালে ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় তা ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়। ক্রমে ক্রমে এটিই হয়ে ওঠে স্বাধীনতার মন্ত্র। এক সময়ে যখন ইংরেজদের বিরুদ্ধে উত্তাল দেশ, চারিদিকে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে, সেই সময়ই এই ‘বন্দে মাতরম’ যেন ঘি-য়ের কাজ করেছিল। শুক্রবার যে বিশেষ অনুষ্ঠানের উদযাপন শুরু হয়েছে তা চলবে ৭ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।