এর আগে একাধিক মামলায় জামিন পেয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু সাক্ষ্যদান পর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর জেলমুক্তি হত না। আদালতের নির্দেশে তাই সেই প্রক্রিয়ায় চলছে।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 7 November 2025 19:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় (Recruitment Scam) অবশেষে চূড়ান্ত স্বস্তি পেতে পারেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। সামনের সপ্তাহেই তাঁর জেলমুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ, গ্রুপ সি মামলায় পার্থর বয়ান রেকর্ড শেষ হয়েছে। কিন্তু অন্য একটি কারণে জেলমুক্তির (Jail Release) বিষয়টি পিছিয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার এসএসসি-র আধিকারিক তপজ্যোতি ঘোষের আংশিক সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। সময়ের অভাবে সম্পূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। আগামী সোমবার ফের সাক্ষ্যদানের পর্ব চলবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই জামিনে পাওয়ার পর জেল থেকে ছাড়া পেতে পারেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। তবে তিনি একা নন, জেলমুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে শান্তিপ্রসাদ সিনহা, সুবীরেশ ভট্টাচার্যরও।
এর আগে একাধিক মামলায় জামিন পেয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু সাক্ষ্যদান পর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর জেলমুক্তি হত না। আদালতের নির্দেশে তাই সেই প্রক্রিয়ায় চলছে। শুক্রবার সেটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সময়ের অভাবে প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হয়েছে। তাই মনে করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহেই সাক্ষ্যদান পর্ব মিটলে জেল থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন পার্থ।
প্রসঙ্গত, গত বছর ১ অক্টোবর প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে শোন আরেস্ট (Shown Arrest) করে সিবিআই (CBI)। তারও আগে ২০২২ সালে জুলাই মাসে প্রথম স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে প্রথম গ্রেফতার করেছিল ইডি (ED)।
জামিন দিয়ে পার্থর ওপর একাধিক শর্ত চাপিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। স্পষ্ট নির্দেশ, আপাতত বিধায়ক হিসেবে কাজ করতে পারবেন না। কোনও পাবলিক অফিসের দায়িত্ব নিতে পারবেন না। নিম্ন আদালতের এলাকার বাইরেও যেতে পারবেন না তিনি। কোনও অপরাধমূলক কাজে যুক্ত হতে পারবেন না। এছাড়া পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে। মোবাইল নম্বর তদন্তকারী অফিসারকে দিতে হবে, তদন্তে সহযোগিতাও করতে হবে। তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গে মাসে একবার দেখা করতে হবে।
২০২২ সালের ২২ জুলাই দক্ষিণ কলকাতার নাকতলায় পার্থর বাড়িতে অভিযান চালায় ইডি। একইসঙ্গে, পার্থর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের টালিগঞ্জ ও বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটে হানা দেয় কেন্দ্রীয় সংস্থা। টালিগঞ্জের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় ২১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা, আর বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাট থেকে ২৭ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধারের পরই গ্রেফতার করা হয় পার্থ এবং তাঁর বান্ধবী অর্পিতাকে। তিনি অবশ্য অনেক আগেই জামিন পেয়ে জেলমুক্ত হয়েছেন।