এই ব্যাপক বদলির প্রধান লক্ষ্য হল রাজ্যের স্কুলগুলিতে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতের (Student-Teacher Ratio) ভারসাম্যহীনতা দূর করা এবং পঠনপাঠন স্বাভাবিক রাখা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 7 November 2025 19:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় পদক্ষেপ করল স্কুল শিক্ষা দফতর (School Education Department)। শুক্রবার প্রকাশিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন স্কুল মিলিয়ে মোট ২৩ হাজার ১৪৫ জন প্রাথমিক শিক্ষককে বদলির (Teachers Transfer) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দফতর জানিয়েছে, এই বদলি সম্পূর্ণভাবে জেলাভিত্তিক হবে— অর্থাৎ শিক্ষকরা নিজ জেলার মধ্যেই অন্য স্কুলে স্থানান্তরিত হবেন। পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য, ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতের ভারসাম্য ফেরানো এবং পঠনপাঠনের মান বজায় রাখা।
‘বাংলার শিক্ষা পোর্টাল’-এর তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত
দফতর সূত্রে খবর, সেপ্টেম্বর মাসে ‘বাংলার শিক্ষা পোর্টাল’ থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাজ্যের স্কুলগুলিতে শিক্ষক বণ্টনে গুরুতর অসামঞ্জস্য রয়েছে।
একদিকে বহু স্কুলে পড়ুয়ার তুলনায় শিক্ষক উদ্বৃত্ত— এমন সংখ্যাই ২৩,১৪৫ জন। অন্যদিকে আবার বহু স্কুলে রয়েছে শিক্ষক ঘাটতি, যার পরিমাণ ২৩,৯৬২ জন।
এই ভারসাম্যহীনতা মেটাতেই রাজ্যের ২২টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের অধীনে থাকা স্কুলগুলিতে শিক্ষকদের পুনর্বিন্যাস বা Rationalization প্রক্রিয়ায় নামল সরকার।
দফতরের নজরদারিতে বদলির প্রক্রিয়া
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুরো বদলি প্রক্রিয়াটি প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হবে, যাতে কোথাও বিশৃঙ্খলা বা অসঙ্গতি না ঘটে।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া শিক্ষামহলে
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শিক্ষামহলে ইতিমধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদল শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক সংগঠন এই উদ্যোগকে “প্রয়োজনীয় ও বাস্তবসম্মত” বলে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এতে ছাত্রদের উপকার হবে এবং পঠনপাঠন আরও সুষম হবে।
তবে অন্যদিকে, অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন— এত বড় সংখ্যায় বদলি হলে শিক্ষক-পরিবারের সামাজিক ও মানসিক চাপ কীভাবে সামলানো হবে, এবং বদলির পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কতটা কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
দীর্ঘ বছর ধরে একই স্কুলে পড়িয়ে শিকড় গজিয়েছে প্রাথমিকের শিক্ষকদের। ছাত্র সংখ্যা কম থাকায় পড়াশোনার বালাই নেই। সময়মতো স্কুলে আসা যাওয়াই কাজ। কোথাও কোথাও শিক্ষক রয়েছে পাঁচ থেকে ছ’জন। অথচ ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা হাতেগোনা। শহর ও শহর সংলগ্ন প্রাথমিক স্কুলগুলোতে এই ছবি দেখা যায়।
শহরের বাইরে গ্রামীণ এলাকার প্রাথমিক স্কুলগুলোতে অন্য ছবি। সেগুলো ধুঁকছে শিক্ষকের অভাবে। কোথাও একজন, কোথাও আবার দুজন শিক্ষক। তাই দিয়েই কোনওরকমে চলছে পঠন পাঠন। এবার সেই শিক্ষকের অপ্রতুলতার সমস্যায় জর্জরিত স্কুলগুলোর হাল ফেরাতে তৎপর হয় প্রশাসন। তার জন্য ‘থ্রি টিচার পলিসি’ গ্রহনের সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছিল শিক্ষা দফতর। অর্থাৎ প্রাথমিক স্কুলগুলোতে যাতে অন্ততপক্ষে তিনজন করে শিক্ষক রাখা যায় সেই দিকেই নজর দেওয়া হচ্ছে। তার জন্য শহুরে এলাকার প্রাথমিক স্কুলে যেখানে অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছে, তাদের বদলি করা হবে গ্রামীণ এলাকায়।