এসআইআর ইস্যুতে রাজ্যের শাসক দলকে বিঁধে শমীক এও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে তৃণমূল মূর্খ মনে করছে। ওরা জানে দুধে কতটা জল আছে।

শমীক ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 5 November 2025 15:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় এসআইআরের (SIR in West Bengal) সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মঙ্গলবার মিছিল করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। তার নেতৃত্বে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee)। মিছিল শুরুর কয়েক মুহূর্ত আগেই রাজ্যের সিইও দফতরে (CEO Office) নানা অভিযোগ জমা করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেছিলেন - এটা জামাতিদের মিছিল, ভারতীয়দের নয়। বুধবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে মূলত সেই সুরেই তৃণমূলের মিছিলকে আক্রমণ করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)।
'তৃণমূল রোহিঙ্গা বাঁচাও যাত্রা করেছে কাল!' শমীক ভট্টাচার্যের এটাই মত। তিনি বলেন, বহু জায়গায় পরিচারিকাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সকলে বুঝতে পারছেন কী কারণ। কিন্তু তৃণমূল নিজেদের ভোটব্যাঙ্কের (Vote Bank) স্বার্থে এসআইআর বিরোধী মিছিল করেছে। আদতে তা রোহিঙ্গা বাঁচাও যাত্রা। শমীকের সংযোজন, বামফ্রন্টের সময়ের তোষণের রাজনীতির সীমাও পার করছে বর্তমান রাজ্য সরকার।
এসআইআর (SIR) ইস্যুতে রাজ্যের শাসক দলকে বিঁধে শমীক এও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে তৃণমূল মূর্খ মনে করছে। ওরা জানে দুধে কতটা জল আছে। এই বিরোধিতার করে আগের সব ইস্যুকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই প্রসঙ্গে অতীতের এক ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন বিজেপি নেতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে খোঁচা দিয়ে মন্তব্য করেন, তিনি যে অবৈধ ভোটারের তালিকা লোকসভার অধ্যক্ষের টেবিলে ছুঁড়ে ফেলে এসেছিলেন, সেটাই তাঁরা খুঁজছেন!
শমীক সিএএ প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন। আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, যারা ধর্মের কারণে অন্য দেশ থেকে আমাদের দেশে এসেছেন, সেইসব হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকেই ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। সিএএ (CAA) ক্যাম্পে (রাজ্যজুড়ে প্রায় ৭৮৩ টা ক্যাম্প) যারা আবেদন করবেন তাদের সবার নামই ভোটার তালিকায় থাকবে। এবারের তালিকাতেই থাকবে।
মঙ্গলবারের মিছিল থেকে এসআইআর নিয়ে বড় বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বললেন, "আমরা থাকতে বাংলার একজন যোগ্যরও নাম বাদ দিতে দেব না। প্রয়োজনে নিজেদের জীবনের রক্ত দিয়ে হলেও তা রক্ষা করব।"
এসআইআর ঘোষণার পর ইতিমধ্যে রাজ্যে বেশ কয়েকজন আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারে যাতে আর একটা প্রাণও না যায় সেজন্য রাজ্যবাসীকে বরাভয় দিয়ে মমতা বলেন, ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে যাঁদের মা-বাবারও নাম নেই, তাঁদের বলছি, বিজেপির কথায় অযথা প্যানিক হবেন না। নিজেদের মূল্যবান প্রাণ এভাবে নষ্ট করবেন না। মা-বাবার সার্টিফিকেট ছাড়াও আরও অনেক নথি দেওয়া যাবে। সেই নথি গুলো করিয়ে নিন। আমাদের যে বিএলএ (বুথ লেবেল এজেন্ট) থাকবে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। তা বলে বিজেপির ক্যাম্পে ভুল করে চলে যাবেন না।