৮৭২ জন ভোটারের মধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, এই অভিযোগ তুলে তাঁকে আটকে রাখা হয়। আতঙ্কে নমিতা ফোন করেন এইআরও-কে।

বিএলও নমিতা দাস আটক!
শেষ আপডেট: 4 April 2026 10:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকা (SIR Voter List) থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে বিএলওকে (BLO) আটক করার অভিযোগ গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে। মালদহের (Malda Incident) মোথাবাড়ির পর এবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা (Gaighata)। কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে যে আচরণের মুখে পড়েছেন ওই কর্মী, তাতে চরম আতঙ্কে রয়েছেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের উত্তেজনা ছড়াল। ঘটনাটি গাইঘাটা বিধানসভার ৩৮ নম্বর বুথের পানসিরা গ্রামে। জানা গেছে, পেশায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, বিএলও নমিতা দাস (BLO Namita Das) বৃহস্পতিবার কাজ সেরে ফিরছিলেন। সেই সময় বিক্ষোভকারীরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। ৮৭২ জন ভোটারের মধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, এই অভিযোগ তুলে তাঁকে আটকে রাখা হয়। আতঙ্কে নমিতা ফোন করেন এইআরও-কে। তিনি জানান, গ্রামবাসীরা অভিযোগ করছেন যে তিনি ‘টাকা খেয়ে ভোট কাটছেন’ এবং কোন দলের হয়ে কাজ করছেন তা নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছে।
নমিতার অভিযোগ পাওয়ার পরেই এইআরও সুদীপ্তা ঘোষ পুলিশকে খবর দেন। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় স্থানীয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। তাঁরা নমিতাকে উদ্ধার করে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেন। যদিও উদ্ধার হওয়ার পরও আতঙ্ক কাটছে না তাঁর। তিনি জানিয়েছেন, “আমতলার দিকে অনেক লোক আমাকে ঘিরে ধরে। বলল, আমি নাকি পয়সা নিয়ে নাম কেটে দিচ্ছি। নানা রকম কথা শুনতে হয়েছে। আমি খুব ভয় পেয়ে অফিসে ফোন করি। তারপর পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে। এখন কাজে বেরোতে ভয় লাগছে।”
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নমিতা দাস দীর্ঘদিন ধরে বুথ স্তরের কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর দাবি, তিনি যা নথি পেয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই সে অনুযায়ী কাজ করেছেন। কিন্তু অভিযোগ, সেই ব্যাখ্যা সত্ত্বেও তাঁকে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। নির্বাচন কাছাকাছি আসতেই এই ধরনের ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রশাসনের দাবি, ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছনোর ফলে বড় কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে মাঠে কাজ করা বিএলও-দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এবার অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
গাইঘাটার এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, ভোটের আগে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, ভুল বোঝাবুঝি এবং গুজবের কারণে কীভাবে মাঠে থাকা কর্মীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাচ্ছেন।