কালিয়াচক-২ নম্বর ব্লক অফিসে এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারককে রাতভর আটকে রাখার ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালেই ক্ষোভ উগরে দেয় দেশের শীর্ষ আদালত।

তৃণমূলের পোস্ট করা ছবি
শেষ আপডেট: 3 April 2026 15:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকায় (Voter List) নাম বাদ যাওয়ায় গত বুধবার মালদহের কালিয়াচকে ((Kaliachak NIA Investigation) যে অশান্তি তৈরি হয়েছিল, তার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। এর মধ্যে আবার, ঘটনার নেপথ্যে ‘বিজেপি-আইএসএফ-মিম’ আঁতাতের তত্ত্ব খাড়া করেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)।
কালিয়াচক-২ নম্বর ব্লক অফিসে এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারককে রাতভর আটকে রাখার ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালেই ক্ষোভ উগরে দেয় দেশের শীর্ষ আদালত।
হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা দিতে রাজ্য প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এর পরেই আদালত সিবিআই বা এনআইএ-কে দিয়ে তদন্ত করানোর সুপারিশ করে। সেই রেশ ধরেই বিকেলে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এনআইএ তদন্তের সিলমোহর দেয় কমিশন। একই সঙ্গে বিচারকদের বাসভবন ও পরিবারের জন্য কড়া নিরাপত্তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এখন তৃণমূল মনে করছে, 'তিনে মিলে' মালদহে অশান্তি (Malda) পাকিয়েছে। শাসকদলের অভিযোগ, এই অশান্তি আদতে বিজেপির সাজানো চিত্রনাট্য, যা রূপায়ণ করেছে তাদের তিন ‘এজেন্ট’। তাঁরা কারা?
তৃণমূলের বক্তব্য, এই তিন পক্ষ মিলেই মালদহকে অস্থির করার চেষ্টা করেছে। তবে বিতর্ক দানা বেঁধেছে ধৃত আইনজীবীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, ওই ব্যক্তি মিম-এর লোক। পাল্টা আসরে নেমেছে বিজেপিও। গেরুয়া শিবিরের তরফে কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে (যার সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল), যেখানে ওই ব্যক্তিকে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর সভামঞ্চে বা তৃণমূল নেতাদের পাশে দেখা যাচ্ছে।
এদিকে, শুক্রবার বেলা গড়ানোর আগেই কলকাতায় এসে পৌঁছন এনআইএ-র দুঁদে অফিসার আইজি সোনিয়া সিং। শুধু তাই নয়, ডিআইজি-র নেতৃত্বে প্রায় দু' ডজনের একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যেই মালদার মোথাবাড়ির দিকে গেছে। তাঁদের মূল কাজ—ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা, এবং ঘটনাপ্রবাহের খুঁটিনাটি জোড়া লাগানো।