শমীকের দাবি, কলকাতা ও লাগোয়া বেশ কিছু বিধানসভা এলাকায় মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। সীমান্তবর্তী বহু কেন্দ্রেও একই প্রবণতা স্পষ্ট।

শমীক ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 29 October 2025 18:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর (SIR) ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক চেহারা নতুন মোড় নিয়েছে - এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষক মহল। বিজেপি নেতা (BJP Leader) তথা রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya) বক্তব্যে বুধবার ফের চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
বিজেপি নেতার অভিযোগ, তৃণমূল সরকার মানুষকে ভয় দেখিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দুর্বল করার চেষ্টা করছে। বিএলও-দের (BLO) মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়ে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় উস্কানি ছড়ানো হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে। তাঁর কথায়, “তৃণমূল (TMC) বিভাজনের রাজনীতি করছে। আমরা সেই পথে হাঁটি না।”
শমীকের দাবি, কলকাতা ও লাগোয়া বেশ কিছু বিধানসভা এলাকায় মুসলিম ভোটারের (Minority Voters) সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। সীমান্তবর্তী বহু কেন্দ্রেও একই প্রবণতা স্পষ্ট। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের অবস্থান স্পষ্ট - ডিটেক্ট অ্যান্ড ডিলিট (Detect and Delete)। যারা দেশভাগের সময় এই দেশে থেকে গেছেন, তাঁদের সঙ্গে বিজেপির কোনও বিরোধ নেই। কিন্তু যারা ধর্মান্ধ রাজনীতি টেনে আনছে, তারাই সভ্যতার ক্যানসার।”
বিজেপি রাজ্য সভাপতি অভিযোগের সুরে বলেন, রাজ্যের সরকার পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় মেরুকরণ ঘটাচ্ছে। কিন্তু মানুষ এখন সিএএ (CAA) চাইছে, এসআইআর (SIR) চাইছে। তাঁর দাবি, কংগ্রেস যা করতে পারেনি, বিজেপি সেটাই করেছে। এদিন তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সংসদে পুরনো এক ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, “যিনি একসময় লোকসভার স্পিকারের টেবিলে কাগজের তালিকা ছুড়ে দিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন, তিনিই এখন সবকিছু মেলাতে চান!”
বিজেপি নেতার আরও অভিযোগ, রাজ্যের সরকার সাংবিধানিক সংস্থাকে আক্রমণ করছে। কেন্দ্রীয় তহবিলের ক্ষেত্রে রাজ্যের মনোভাব নিয়েও তোপ দাগেন তিনি। বলেন, “একশো দিনের কাজের টাকার বিষয়ে আদালত বলেছে, কেন্দ্র যেভাবে শর্ত দেবে, সেটা মানতেই হবে। তৃণমূল বলছে টাকা আমাদের অধিকার, কিন্তু হিসাব দেওয়া আমাদের কর্তব্য নয়, এটা মেনে নেওয়া যায় না।”
এসআইআর প্রসঙ্গে শমীকের খোঁচা, “বাকি বারোটি রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে, কিন্তু কোথাও উত্তেজনা নেই। শুধু বাংলায় হচ্ছে। কারণ এখানে তৃণমূল ভয়ের রাজনীতি চালাচ্ছে।” বাংলার সামাজিক সম্প্রীতি নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। বিজেপি নেতার সংযোজন, এই বাংলাতেই কালীপুজো আর মহরমের মিছিল পাশাপাশি গেছে। দুর্গাপুজোর বিসর্জন ও মহরম একসঙ্গে হয়েছে। এমন বাংলাই চাইছেন সকলে।
সম্প্রতি এনআরসি আতঙ্কে পানিহাটিতে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। সেই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিতর্কের প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন শমীক। তাঁর স্পষ্ট মৃত ব্যক্তি নাকি ক্লাস থ্রি পর্যন্ত পড়েছেন, অথচ এনআরসি জানতেন! এই ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষ।