তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি বলেছিল তারা এসআইআর-এর বিরুদ্ধে। তবে ইতিমধ্যে রাজ্যে এসআইআর ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর তাঁদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে - প্রকৃত কোনও ভোটারের নাম বাদ গেলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে।

বিমান বসু
শেষ আপডেট: 29 October 2025 16:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে এসআইআর (SIR) নিয়ে মঙ্গলবার সর্বদল বৈঠক হয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO West Bengal) মনোজ কুমার আগরওয়ালের দফতরে। সেই বৈঠক শেষে কার্যত কমিশনের ওপরই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন সিপিএম (CPM) সহ সব বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দল। বুধবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে ডেপুটেশন জমা দিতে এসে এসআইআর নিয়ে দলগত অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু (Biman Basu)।
তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সরাসরি বলেছিল তারা এসআইআর-এর বিরুদ্ধে। তবে ইতিমধ্যে রাজ্যে এসআইআর ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর তাঁদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে - প্রকৃত কোনও ভোটারের নাম বাদ গেলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে। এই প্রসঙ্গে বিমান বসু (Biman Basu) অবশ্য বলছেন, তারা কখনই এসআইআর-এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি। নিলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে আসতেন না।
বিমান এদিন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দফতর থেকে সাংবাদিকদের বলেন, ''এসআইআরের নামে জুজু দেখানো বন্ধ হোক। একটাও বৈধ ভোটার যাতে বাদ না যায় সেটা খেয়াল রাখতে হবে। আমরা চাই সঠিক ও শুদ্ধ তালিকা তৈরি হোক। আমরা CAA-র বিরোধীতা করছি এবং করব। তবে এসআইআর (SIR) নিয়ে অবস্থান ভিন্ন।'' এর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন তিনি।
বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানের স্পষ্ট কথা, ভোটার তালিকা স্বচ্ছ করা, মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া - সবই সিইও (CEO), নির্বাচন কমিশনের (ECI) কাজ। এর দায় জনগণের ওপর চাপালে হবে না। আর কোনও দলবাজির শিকার হলেও চলবে না। পরিচ্ছন্ন ভাবে, নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে। কোনও প্রকৃত নাগরিকের নাম বাদ না যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee) এসআইআর এবং ভোটার তালিকা ইস্যুতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে নানা মন্তব্য করেছেন। সরাসরি তাঁকে হুঁশিয়ারিই দিয়েছিলেন। এ নিয়ে বিমান বসুকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন - আমি অল্পবয়সী কোনও ছেলের প্রশ্নের উত্তর দিই না।
আসলে পানিহাটির এক প্রৌঢ়, প্রদীপ কর, এনআরসি (NRC) আতঙ্কে আত্মহত্যা করেছেন বলে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে। সেই নিয়ে গর্জে ওঠে শাসক দল। বুধবারই ওই মৃত প্রৌঢ়র বাড়ির এলাকায় গেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বলেন, "আমি লজ্জিত, একটা রাজনৈতিক দল এতটা নীচে নামতে পারে! প্রদীপবাবু পরিষ্কারভাবে লিখে গেছেন, 'আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী এনআরসি', এরপরও বিজেপি রাজনীতি করছে। তাই বলব, এলাকায় বিজেপির নেতারা এলে তাঁদের ঘিরে ধরবেন, বেঁধে রাখবেন, জানতে চাইবেন - 'বাবা ঠাকুরদার সার্টিফিকেট নিয়ে আয়, তারপরে প্রচার করতে আসবি'।"
তবে কারও গায়ে যেন হাত না তোলা হয়, এ বিষয়েও সতর্ক করে দেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তিনি বলেন, "বেঁধে রাখবেন, গায়ে হাত দেবেন না। আমরা কারও গায়ে হাত তোলায় বিশ্বাসী না।"