বাংলা সহ ১২ রাজ্য এসআইআর ঘোষণা করার দিনই জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সকলকে আশ্বস্ত করেছিলেন। বলেছিলেন, এটি একটি সাধারণ প্রক্রিয়া।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 29 October 2025 17:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় এসআইআর (West Bengal SIR) ঘোষণা হতেই সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে ধন্দ বেড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) দাবি করছে, এটা এনআরসি (NRC) করার অন্য পন্থা। ইতিমধ্যে পানিহাটিতে এক প্রৌঢ় আতঙ্কে আত্মহত্যা করেছেন এবং দিনহাটায় এক ব্যক্তি আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে খবর।
এই আবহে সাধারণ মানুষের চিন্তা দূর করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। জানানো হয়েছে, নাগরিকরা এখন ১৯৫০ ভোটার হেল্পলাইন এবং ‘Book-a-Call with BLO’ পরিষেবা ব্যবহার করে ভোট সংক্রান্ত সমস্ত প্রশ্ন করতে পারবেন ও অভিযোগ জানাতে পারবেন।
মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO West Bengal) মনোজ কুমার আগরওয়াল এসআইআর নিয়ে যাবতীয় ধোঁয়াশা দূর করতে বলেন, এটা একটা প্রকল্প, জাতীয় নির্বাচন কমিশন যার তদারকি করে। এর আগে দেশে এমন হয়েছে। সম্প্রতি বিহারেও হয়েছে। তাই কেউ ভয় পাবেন না। কিন্তু তাতেও যে বরফ পুরো গলছে এমন না। তাই এবার সরাসরি পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন।
বাংলা সহ ১২ রাজ্য এসআইআর ঘোষণা করার দিনই জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) সকলকে আশ্বস্ত করেছিলেন। বলেছিলেন, এটি একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। প্রকৃত কোনও ভোটারের নাম বাদ যাবে না। বাংলার সিইও-ও একই কথা বলেছেন। তবে সাধারণ মানুষকে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করতে এবার এক বিবৃতিই জারি করেছেন নির্বাচন কমিশন।
এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক তাতে কী বলা হয়েছে -
১. জাতীয় ভোটার হেল্পলাইন এবং দেশের ৩৬টি রাজ্য ও জেলা পর্যায়ের হেল্পলাইন সক্রিয় করা হয়েছে, যাতে নাগরিকদের সমস্ত প্রশ্ন ও অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়।
২. ন্যাশনাল কন্ট্যাক্ট সেন্টার (NCC) সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য কেন্দ্রীয় হেল্পলাইন হিসেবে কাজ করবে। এটি প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু থাকবে টোল-ফ্রি নম্বর ১৮০০-১১-১৯৫০-এ। প্রশিক্ষিত কর্মীরা নাগরিকদের ভোট সংক্রান্ত পরিষেবা ও প্রশ্নে সাহায্য করবেন।
৩. কমিশন প্রত্যেক রাজ্য ও জেলাকে তাদের নিজস্ব স্টেট কন্ট্যাক্ট সেন্টার (SCC) ও ডিস্ট্রিক্ট কন্ট্যাক্ট সেন্টার (DCC) স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে স্থানীয় ভাষায় দ্রুত ও কার্যকরী সহায়তা প্রদান করা যায়।
৪. সমস্ত অভিযোগ ও প্রশ্ন ন্যাশনাল গ্রিভ্যান্স সার্ভিস পোর্টাল (NGSP 2.0)-এর মাধ্যমে রেকর্ড ও ট্র্যাক করা হবে।
৫. এছাড়াও, নির্বাচন কমিশন চালু করেছে ‘Book-a-Call with BLO’ পরিষেবা, যার মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি তাঁদের সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। এই পরিষেবা ECINET প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ।
৬. নাগরিকরা ECINET অ্যাপ ব্যবহার করেও নির্বাচন আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। কমিশন সমস্ত সিইও, ডিইও ও ইআরও-দের নির্দেশ দিয়েছে যাতে তাঁরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহারকারীদের অভিযোগের অগ্রগতি ও নিষ্পত্তি নিশ্চিত করেন।
৭. এই পরিষেবাগুলি বিদ্যমান অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার অতিরিক্ত। নাগরিকরা চাইলে complaints@eci.gov.in-এ ইমেল করেও তাঁদের অভিযোগ জানাতে পারেন।
৮. নির্বাচন কমিশন সকল ভোটারকে আহ্বান জানিয়েছে, দরকারে তাঁরা যেন ‘Book-a-Call with BLO’ ও ১৯৫০ ভোটার হেল্পলাইন ব্যবহার করে ভোট সংক্রান্ত তথ্য, প্রতিক্রিয়া, পরামর্শ ও অভিযোগ জানান।

প্রসঙ্গত, ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু হবে এনুমেরেশন ফর্ম (সংখ্যা যাচাই সংক্রান্ত ফর্ম) ছাপার কাজ এবং সেই দিনই বিএলওদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে, যা চলবে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। পরের ধাপে ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের হাতে এনুমেরেশন ফর্ম তুলে দেওয়া হবে। প্রবাসী বা রাজ্যের বাইরে থাকা নাগরিকরা অনলাইনেও ফর্ম পূরণ করতে পারবেন।
খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৯ ডিসেম্বর। কেউ তালিকায় ভুল বা বাদ পড়া নাম নিয়ে অভিযোগ জানাতে পারবেন ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর ৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া চলবে। সবশেষে ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।