রাত পোহালেই বিহারে নির্বাচন। তার একদিন আগে রাহুল গান্ধী এমন অভিযোগ তুলে সাংবাদিক বৈঠক কেন করলেন সেই প্রশ্নও তুলেছেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য - বৃহস্পতিবার ভোট, আর আজকেই হেরে গেলেন উনি!

রাহুল গান্ধী এবং শমীক ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 5 November 2025 16:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় এসআইআর (SIR in West Bengal) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বুধবার কার্যত বোমা ফাটিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেছেন, হরিয়ানায় ব্যাপক ভোট চুরি (Vote Theft) হয়েছে। প্রতি ৮টি ভোটারের মধ্যে একজন ভোটার ভুয়ো। অন্তত ২৫ লক্ষ ভুয়ো ভোটারের নাম ঢোকানো হয়েছে তালিকায়। কিন্তু এই অভিযোগ শুনে একদমই বিচলিত নয় বঙ্গ বিজেপি (West Bengal BJP)। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya) কথায় - ওঁর কথা নিজের দলেরই কেউ পাত্তা দেয় না।
রাত পোহালেই বিহারে নির্বাচন (Bihar Election)। তার একদিন আগে রাহুল গান্ধী এমন অভিযোগ তুলে সাংবাদিক বৈঠক কেন করলেন সেই প্রশ্নও তুলেছেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য - বৃহস্পতিবার ভোট, আর আজকেই হেরে গেলেন উনি! তিনি এখন এই দাবি করলেন কেন? এটা তো পরশুও করতে পারতেন! এই প্রসঙ্গেই শমীকের কটাক্ষ, ক্রিকেটাররা যেমন আগে নেট প্র্যাকটিস (Net Practice) করেন, তেমন রাহুল গান্ধীও সেরে রাখছেন। বিহার নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর কী বলতে হবে, তার জন্য। বর্তমানে তাঁর কথা কংগ্রেসেরই (Congress) কেউ পাত্তা দেয় না।
এসআইআর (SIR) নিয়ে বিজেপি বিরোধী শিবির কার্যত এক অবস্থান নিয়েছে। ইন্ডিয়া জোটের (India Alliance) কাছে এটি সন্দেহজনক প্রক্রিয়া, আসল ভোটাররা বঞ্চিত হতে পারেন। কিন্তু এই দাবি নস্যাৎ করে শমীকের খোঁচা, রাহুল গান্ধীকে এখনই পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা প্রয়োজন। রাহুল গান্ধীর বাড়ির এলাকায় আর কোনও পরিচারিকা পাওয়া যাচ্ছে না। তারা সব কোথায় গেল একটু খুঁজে বের করতে হবে। বলাই বাহুল্য, বিজেপি রাজ্য সভাপতির ইঙ্গিত, এরা সবাই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বা রোহিঙ্গা। এসআইআর শুরু হতেই ভয়ে পালিয়েছেন।
এদিকে অসমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আমার সোনার বাংলা' গান গাওয়া নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে তারও প্রতিক্রিয়া দেন শমীক। বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে সেটা কী কারণে ঘটেছে তা জানতে হবে। তবে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান বন্ধের বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানাচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা তাঁরা সমর্থন করেন না।
তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) মতো রাহুল গান্ধীও অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন (ECI) বিজেপির ইশারায় এই ভোট চুরি করছে! তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের হরিয়ানার বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস “ঝড় তুলতে পারত,” কিন্তু ভোট তালিকায় ভয়াবহ কারচুপি হয়েছে। এর আগে কর্নাটক নিয়েও তাঁর একই দাবি ছিল।
বিষয়টি নিয়ে পাল্টা দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনও (ECI)। রাহুলের সাংবাদিক বৈঠকের মধ্যেই তাদের তরফে প্রতিক্রিয়া আসে। কমিশন জানায়, “হরিয়ানার ভোটার তালিকা নিয়ে কোনও আপিল জমা পড়েনি। যদি ভুয়ো ভোটের সন্দেহ ছিল, তাহলে কংগ্রেসের পোলিং এজেন্টরা বুথেই আপত্তি জানায়নি কেন?” এর পাশাপাশি এক নির্বাচনী আধিকারিক বলেন, “রাহুল গান্ধী এখন কি বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে সমর্থন করছেন, যা ডুপ্লিকেট, মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দিতে সাহায্য করে? নাকি তিনি এরই বিরোধিতা করছেন?”