একাধিক আইনজীবী এজলাসে ঢুকে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন, বিচারকের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। চাপের জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিচারক সোমা চক্রবর্তী। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 19 June 2025 19:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বনগাঁ আদালতের (Bongaon Court) এজলাসে বিচারক সোমা চক্রবর্তীকে হেনস্থার ঘটনায় সাতজন আইনজীবীকে (Lawyers) দোষী সাব্যস্ত করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। তবে এই মুহূর্তে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। তবে আদালতের কড়া বার্তা, ভবিষ্যতে এই ধরনের আচরণ পুনরায় ঘটলে রেয়াত করা হবে না।
বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ সব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার জানায়, “ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা ঘটলে, এই মামলার সঙ্গে তা যুক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই কাজ করবে হাইকোর্ট প্রশাসন।” কিন্তু ঘটনাটি ঠিক কী?
২০২৩ সালের এপ্রিল মাস। বনগাঁ আদালতে বিচারক সোমা চক্রবর্তী এজলাসে একটি মামলার শুনানি হচ্ছিল। সেই সময়ে আইনজীবীদের একটি অংশ এজলাসে প্রবেশ করে তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। জানা যায়, এক ল ক্লার্কের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সেই সময় বনগাঁ বার অ্যাসোসিয়েশন কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিল। কিন্তু বিচারক সোমা চক্রবর্তী এজলাসে শুনানি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই কারণেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন আইনজীবীরা।
অভিযোগ, আইনজীবী পায়েল রায় যখন আদালতে একটি মামলা লড়ছিলেন, তখনই উত্তেজনা চরমে ওঠে। একাধিক আইনজীবী এজলাসে ঢুকে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন, বিচারকের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই চাপের জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিচারক সোমা চক্রবর্তী। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
এই ঘটনাকে আদালতের অবমাননা এবং গুরুতর অপরাধ বলে মনে করে কলকাতা হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা রুজু করে। দীর্ঘ শুনানির পরে সাতজন আইনজীবীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তবে এখনই তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তির নির্দেশ দেয়নি আদালত।