রঙ, আকার ও গঠন চন্দ্রমুখীর সঙ্গে প্রায় এক। এই জাতের বীজ পাঞ্জাব থেকে আসে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 25 October 2025 15:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাজারে আপনি যে ‘চন্দ্রমুখী’ (Chandramukhi) আলু কিনছেন, তা আদৌ চন্দ্রমুখী তো? সন্দেহে ক্রেতা, চিন্তায় ব্যবসায়ীও। কারণ আলুর দুনিয়ায় এখন চলছে চন্দ্রমুখীর নামে অন্য জাতের আলুর রমরমা (Hybrid Potatoes)! হিমালিনী কিংবা কলম্বো— এই দুই সংকর প্রজাতির আলুকেও নাকি অনেক জায়গায় চন্দ্রমুখীর নামে বিক্রি করা হচ্ছে।
আলু ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে হিমঘর মালিক, সকলেরই এক কথা, “চন্দ্রমুখীর নামে সব জায়গায় খাঁটি চন্দ্রমুখী বিক্রি হচ্ছে, এমন নয়।” কেউ কেউ বলছেন, কখনও কিছুটা চন্দ্রমুখী মিশিয়ে বেচা হচ্ছে হিমালিনী বা কলম্বো। আবার কোথাও সম্পূর্ণ হাইব্রিড প্রজাতিই বিক্রি হচ্ছে চন্দ্রমুখীর দরে। কারণ, বাইরে থেকে দেখতে এদের মিল এতটাই বেশি যে সাধারণ ক্রেতার পক্ষে আলাদা করা প্রায় অসম্ভব। খাওয়ার সময় স্বাদে কিছু পার্থক্য বোঝা যায় বটে, কিন্তু সেটিও অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়।
কলকাতা ও শহরতলির বাজারে সাধারণত জ্যোতি ও চন্দ্রমুখী— এই দুই আলু আলাদা দরে বিক্রি হয়। জ্যোতির কেজি ২০ টাকা, আর চন্দ্রমুখীর ২৮ টাকার কাছাকাছি। প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির কর্তা লালু মুখোপাধ্যায় জানান, “হিমঘর থেকে জ্যোতি বিকোচ্ছে ১৪–১৫ টাকায়, চন্দ্রমুখী প্রায় ২০ টাকায়। সেই হিসেবে খাঁটি চন্দ্রমুখীর খুচরো দাম ২৫ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।”
কিন্তু বাস্তবে চন্দ্রমুখীর দামে অনেক জায়গায় বিক্রি হচ্ছে অন্য জাতের আলু। ব্যবসায়ীদের মতে, চন্দ্রমুখী চাষে খরচ বেশি, ফলন কম। তাই আসল চন্দ্রমুখীর জোগান সীমিত।
হিমঘর মালিক সংগঠনের কর্তা পতিতপাবন দে বলেন, “রাজ্যে মোট আলু উৎপাদনের মাত্র পাঁচ শতাংশই চন্দ্রমুখী। মূলত হুগলির তারকেশ্বর, ধনেখালি ও পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর, মেমারিতে এই চাষ হয়। তাই বাজারে জোগান কম, দাম তুলনায় বেশি।”
অন্যদিকে, হিমালিনী ও কলম্বোর মতো হাইব্রিড জাতের আলু চাষে সেই বাধা নেই। ফলন বেশি, খরচও কম। তাই অনেক কৃষক জ্যোতির মতো করেই এই দুই জাত চাষ করছেন। বিশেষত কলম্বোর দিকে ঝোঁক বাড়ছে, কারণ সেটির রঙ, আকার ও গঠন চন্দ্রমুখীর সঙ্গে প্রায় এক। এই জাতের বীজ পাঞ্জাব থেকে আসে।
ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবি, বাজারে যেন 'আলু আসল নামেই বিক্রি হয়'। ক্রেতা যাতে নিজের পছন্দমতো বেছে নিতে পারেন। খাদ্যসামগ্রী বিষয়ক রাজ্য টাস্ক ফোর্সের সদস্য কমল দে বলেন, “চন্দ্রমুখী নিয়ে বিশেষ নজরদারি থাকে না, কারণ বেশিরভাগ ক্রেতাই কম দামের জ্যোতি আলুই কিনে থাকেন।”
ফলে প্রশ্ন উঠছে— বাজারে যে ‘চন্দ্রমুখী’ আলু ২৮ টাকায় বিকোচ্ছে, তা আসল না ‘ছদ্মচন্দ্রমুখী’?