নভেম্বরের মাঝামাঝি চালু হবে প্রথম পর্যায়ের ইনডোর পরিষেবা—১৭টি কেবিন দিয়ে শুরু হবে কাজ।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 23 October 2025 19:22
আর সরকারি ভরসায় নয়। রাজ্যের স্বাস্থ্যদফতরের নতুন ভাবনায়, রোগীদের টাকাতেই চলবে হাসপাতাল। তবে এজন্য রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হবে ন্যূনতম টাকা। বুধবার থেকে এসএসকেএম বা পিজি হাসপাতালের (PG Hospital) নতুন ‘বাজেট হাসপাতাল’ ‘অনন্য’ আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা শুরু করেছে। এই প্রথম রাজ্যের কোনও সরকারি হাসপাতাল চলবে পুরোপুরি স্বনির্ভর মডেলে (Self-sustaining model , West Bengal)। সরকারি ভরতুকি নয়, রোগীদের দেওয়া (Patient Money) কেবিন ভাড়া ও চিকিৎসা খরচ থেকেই মেটাতে হবে সমস্ত ব্যয়।
সূত্রের খবর, শুরুতেই ভাল সাড়া মিলছে ‘অনন্য’-তে। আধুনিক সাজসজ্জা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর তুলনামূলকভাবে কম খরচ—সব মিলিয়ে রোগীদের আগ্রহ স্পষ্ট।
রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানান, “বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় অনেক কম খরচে উন্নত চিকিৎসা পাবেন এখানে। যদি ‘অনন্য’ স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে, তাহলে একই ধাঁচে অন্য সরকারি হাসপাতালেও এমন ওয়ার্ড চালুর ভাবনা রয়েছে।”
রাজ্যের স্বাস্থ্যদফতরের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই হাসপাতাল চলবে সম্পূর্ণ ‘সেলফ সাসটেইনিং’ মডেলে। অর্থাৎ, কোনও সরকারি অর্থসাহায্য বা ভরতুকি মিলবে না। ইনডোর কেবিন থেকে আউটডোর—সব ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট হারে ফি ধার্য করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা মতোই কেবিন ভাড়া রাখা হয়েছে তুলনামূলক কম। সিঙ্গল অকুপেন্সি কেবিনের ভাড়া দৈনিক পাঁচ হাজার টাকা, স্যুইটের ভাড়া আট হাজার টাকা, এইচডিইউ (ভেন্টিলেটর বা বাইপ্যাপ বাদে) প্রতিদিনের খরচ ১২,০০০ টাকা এবং আইসিইউ (সব খরচসহ) প্রতিদিন ১৫,০০০ টাকা।
এছাড়াও আউটডোরে চিকিৎসক দেখানোর খরচ ৩৫০ টাকা, এর মধ্যে চিকিৎসক পাবেন টাকা ৩০০, পিজি প্রশাসনিক খরচ হিসেবে নেবে ৫০ টাকা। সপ্তাহের প্রতিদিন দুপুর ৩টে থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তিন দফায় (Three Slots) রোগী দেখবেন চিকিৎসকরা।
‘অনন্য’-র আয় থেকে সরকারি চিকিৎসকদের জন্যও থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। হাসপাতালের মোট আয়ের ২০ শতাংশ (ওষুধ ও টেস্ট বাদে) ভাগ করে দেওয়া হবে চিকিৎসকদের মধ্যে। মূলত কেবিন ভাড়া, অপারেশন ও বিভিন্ন চিকিৎসা-প্রক্রিয়ার খরচ থেকেই আসবে তাঁদের অংশ।
২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর শুরু হয়েছিল প্রকল্পটি। ১০ তলা ভবনের উপরের তলায় রয়েছে ৮টি ভিআইপি স্যুইট। বাকি তলাগুলিতে ১০২টি আধুনিক কেবিন। রয়েছে ৫টি এইচডিইউ ও ১৬টি আইসিইউ বেড। গত বুধবার খুলছে আউটডোর বিভাগ। নভেম্বরের মাঝামাঝি চালু হবে প্রথম পর্যায়ের ইনডোর পরিষেবা—১৭টি কেবিন দিয়ে শুরু হবে কাজ।
কেবিন ভাড়ার মধ্যেই চিকিৎসকের ফি ও রোগীর খাবারের খরচ ধরা আছে, তবে ওষুধ ও পরীক্ষার খরচ আলাদা। অপারেশন হবে প্যাকেজ ব্যবস্থায়। মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দিয়েও পরিষেবা নেওয়া যাবে।
স্বাস্থ্যদফতর সূত্রে খবর, উডবার্ন–২ ওয়ার্ড বা ‘অনন্য’ যদি সফলভাবে নিজের খরচ তুলতে পারে, তবে রাজ্যের অন্যান্য বড় সরকারি হাসপাতালেও চালু হতে পারে এমন স্বনির্ভর ইউনিট। অর্থাৎ, সরকারি হাসপাতালের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার পথে এক ‘অনন্য’ পদক্ষেপ নিল বাংলা।