মধ্যপ্রদেশে দেখা গেল এক মহিলা আইএএস অফিসারের ‘বিদায়ী-যাত্রা’ কীভাবে রাজকীয় মর্যাদায়, জাঁকজমকের সঙ্গে পালন করলেন তাঁর অধঃস্তন কর্মীরা।

সংস্কৃতিকে একেবারে রাজকীয় সম্মানে সেওনি জেলা অফিস থেকে বের করে আনেন তাঁর সহকর্মী ও অন্য কর্মচারী।
শেষ আপডেট: 8 October 2025 11:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেক সময় দেখা যায়, স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা প্রিয় শিক্ষকের বদলি মানতে নারাজ হয় পড়ুয়ারা। তাঁকে স্কুলে রাখার জন্য ধরনা-অবরোধও হয়েছে। কিন্তু, মধ্যপ্রদেশে দেখা গেল এক মহিলা আইএএস অফিসারের ‘বিদায়ী-যাত্রা’ কীভাবে রাজকীয় মর্যাদায়, জাঁকজমকের সঙ্গে পালন করলেন তাঁর অধঃস্তন কর্মীরা। ওই মহিলা আইএএস অফিসারের নাম সংস্কৃতি জৈন। তিনি সম্প্রতি ভোপালে বদলি হয়েছেন। তাই বিদায় সংবর্ধনায় সংস্কৃতিকে একেবারে রাজকীয় সম্মানে সেওনি জেলা অফিস থেকে বের করে আনেন তাঁর সহকর্মী ও অন্য কর্মচারী।
২০১৫ সালের ব্যাচের আইএএস অফিসার সংস্কৃতি ছিলেন সেওনির জেলা কালেক্টর। সেখান থেকে তাঁকে বদলি করা হয়েছে ভোপাল মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কমিশনার পদে। তাঁর কাজের শেষদিনেই কর্মীরা একটি কন্যা বিদায়ের মতো করে একটি স্বর্ণপালকি ভাড়া করে আনেন। আপাদমস্তক সোনালি রঙের একটি ময়ূরপঙ্খী শাহি পালকিতে বসানো হয় তাঁকে। তারপর অফিসের কর্মীরাই সেই পালকি কাঁধে করে নিয়ে তাঁকে অফিসের বাইরে পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে যান।
An MP IAS officer Sanskriti Jain, Collector Seoni,was given a unique farewell by her staff. Unheard of before.
Many officers hv been popular during their postings owing to people-oriented works & honesty, yet this was something new.
Let more officers be like her.@IASassociation pic.twitter.com/wsebdt9ELw
— Abhilash Khandekar (@Abhikhandekar1) October 5, 2025
সংস্কৃতি এই আবেগঘন অথচ আনন্দের মুহূর্তে তাঁর দুই কন্যাকেও কোলে বসিয়ে নেন পালকির বসার আসনে। সেই অনুষ্ঠান দেখতে হাজির ছিলেন সেদিন জেলা কালেক্টর অফিসে আসা লোকজনও। কাঁধে করে পালকি নিয়ে যাওয়ার সময় কর্মীরা বিখ্যাত বলিউড সঙ্গীত ‘পালকি মে হোকার সওয়ার চলি রে...’ গানটি ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে চালিয়ে দেন।
তেমনই আরেক মহিলা অফিসার একেবারে মাটির মানুষ হিসেবে বদলির সময় বিদায় নিলেন। তাঁর নাম বৈশালী জৈন। তিনি রেওয়ার মহকুমা শাসক পদে ছিলেন, বদলি হয়ে গিয়েছেন রতলাম মহকুমায়। তাঁর সহকর্মীরা প্রস্তাব দিয়েছিলেন, বিদায় সংবর্ধনায় বৈশালীর ওজনের লাড্ডু বিতরণ করা হবে অফিসে। কিন্তু, বৈশালী সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে সকলকে হাসিমুখে নমস্কার জানিয়ে বিদায় নিয়েছেন। তাঁর এই আচরণ সকলকে অবাক করে দিলেও তারিফ কুড়িয়েছেন বৈশালীই। তিনি এগিয়ে এসে লাড্ডু ও ওজনের দাঁড়িপাল্লার সামনে দাঁড়িয়ে নতমস্তকে প্রণাম করে হাসিমুখে বেরিয়ে যান সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে।