মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) হুংকার দিয়েছেন আফগানিস্তানের (Afghanistan) বাগগ্রাম এয়ারবেস আমেরিকার হাতে তুলে না দিলে চরম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 8 October 2025 10:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু'দেশের মধ্যে বিবাদ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সূর্যোদয় সূর্যাস্তের দিক নিয়েও বিবাদ বিতর্ক বেধে যাওয়া অসম্ভব নয়। ভারত-পাকিস্তান (India-Pakistan) সম্পর্ককে এভাবেই দেখেন কূটনৈতিক মহলের সিংহভাগ। পাঁচ মাস আগে দু'দেশের মধ্যে ছোটখাটো যুদ্ধও হয়ে গেছে। তার রেশ এখনও চলছে। সেই ভারত-পাকিস্তান মঙ্গলবার আমেরিকার বিরুদ্ধে একটি যৌথ বিবৃতিতে সই করেছে। সেটিতে অন্যতম সাক্ষাৎ স্বাক্ষরকারী চিন (China) এবং রাশিয়াও (Russia)।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) হুংকার দিয়েছেন আফগানিস্তানের (Afghanistan) বাগগ্রাম এয়ারবেস আমেরিকার হাতে তুলে না দিলে চরম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। আফগানিস্তানে তালিবান বিরোধী দু-দর্শক ব্যাপী অভিযানে বাগরাম এয়ারবাস ছিল আমেরিকার প্রধান ঘাঁটি। ট্রাম্প দাবি তুলেছেন, সেটি আমেরিকার হাতে তুলে দিতে হবে।
মঙ্গলবার মস্কোয় বসেছিল আফগানিস্তান বিষয়ক এক বহু রাষ্ট্রীয় বৈঠক। সেখানে আফগানিস্তান রাশিয়া ছাড়াও চিন, ভারত, পাকিস্তান, কাজাখস্তান, বেলারুশ অংশ নিয়েছিল। বৈঠক শেষে যে যৌথ বিবৃতি জারি করা হয় তাতে আমেরিকার নাম না থাকলেও ট্রাম্পের ঘোষণার পরোক্ষে কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে এইভাবে কোন একটি দেশের সামরিক পরিকাঠামো দখল নেওয়া আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির পক্ষে বিপজ্জনক ঘোষণা।

আফগানিস্তানের বাগরাম এয়ার বেস
এই যৌথ ঘোষণাপত্রেই সই করেছে ভারত পাকিস্তান চিন সহ বাকি দেশগুলি। বলাই বাহুল্য, আলোচনা হচ্ছে ভারত পাকিস্তানের একই নথিতে স্বাক্ষর নিয়ে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল চলতি সপ্তাহের শেষে ভারত সফরে আসেন আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের বিদেশ মন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। তালিবান বিদেশমন্ত্রীর সফর নিয়ে কূটনৈতিক মহলে তুমুল কৌতুহল তৈরি হয়েছে। মস্কোর আলোচনাতেও এক উচ্চপর্যয়ের প্রতিটি দল নিয়ে উপস্থিত ছিলেন মুত্তাকি।
বাগরাম এয়ার বেস নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প খোলাখুলি বলেছেন আফগানিস্তানের ওই এয়ারবেসটি আঞ্চলিক শান্তি রক্ষার জন্যই আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া প্রয়োজন। চিন সীমান্তের অদূরে অবস্থিত ওই এয়ার বেসটি একসময় রাশিয়ার বাহিনীকে মোকাবিলায় ব্যবহার করত মার্কিন ফৌজ। ট্রাম্পের বক্তব্য ওই এলাকায় চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা রুখতে এয়ারবেসটি মার্কিন বাহিনীর হাতে থাকা প্রয়োজন। তাতে ওই অঞ্চলে আফগানিস্তান সহ একাধিক প্রতিবেশী দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে।
এয়ার বেসটি পাকিস্তান এবং ইরান সীমান্ত থেকেও খুব বেশি দূরে নয়। চিনের শিনজিয়াং এলাকার অদূরে অবস্থিত এয়ার বেসটি নিয়ে বেজিংয়ের কর্তারাও চিন্তিত। শিনজিয়াং এলাকায় রয়েছে চিনের পরমাণু অস্ত্র ভান্ডার। তার অদূরে মার্কিন সেনার উপস্থিতি সভাপতি বেজিংকে অনেক বেশি চিন্তায় ফেলেছে। এই ইস্যুতে পাকিস্তানের মার্কিন বিরোধিতার পিছনে চিনের প্রভাব কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।