মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সংকটের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ডিসেম্বর মাসে ভারতে আসবেন (Putin's India Tour)। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 8 October 2025 08:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ৭৩তম জন্মদিনে ফোন করে শুভেচ্ছা জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi wishes Putin)। এই আলাপচারিতায় দুই রাষ্ট্রনেতা ভারত ও রাশিয়ার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। মঙ্গলবার মোদী ফোনালাপে পুতিনকে জানিয়েছেন, তাঁর সরকার ভারতের মাটিতে তাকে স্বাগত জানাতে উন্মুখ (India Russia relations)।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সংকটের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ডিসেম্বর মাসে ভারতে আসবেন (Putin's India Tour)। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈঠকের প্রাথমিক এজেন্ডা হবে কৌশলগত সহযোগিতা এবং প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের অবস্থান সমন্বয়।
এর আগে পুতিন ভারতে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই দেশের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, 'ভারতের সঙ্গে আমাদের কখনও কোনও দ্বন্দ্ব বা অসন্তোষ ছিল না। আমি জানি ভারত কখনও অযাচিত প্রভাব মেনে নেবে না।' পুতিন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে ‘বন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করে আশ্বাস দিয়েছেন যে, ভারতের স্বার্থ বা মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করবে এমন কোনও পদক্ষেপ রাশিয়া গ্রহণ করবেন না।
রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি আমদানিকে কেন্দ্র করে পুতিন ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, 'যদি ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে, তা দেশের জন্য ৯০০ থেকে ১০০০ কোটি ডলারের ক্ষতি হবে। জনগণ স্পষ্টভাবে দেখবে নেতারা দেশের জন্য কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না যা ভারতের সম্মানকে আঘাত করবে। তবে মার্কিন শুল্কের কারণে ভারতের সম্ভাব্য ক্ষতি পূরণ করতে রাশিয়া ভারত থেকে আরও বেশি কৃষিপণ্য ও ওষুধ কিনবে।'
পুতিনের ভারত সফর কেবল দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককেই দৃঢ় করবে না, বরং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার নতুন সুযোগও খুলে দেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সমন্বয় আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুই দেশের প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি ভারত ও রাশিয়ার প্রতিযোগিতামূলক শক্তি দৃঢ় করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সফর এবং আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। এতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত ক্ষেত্রের সমন্বয় সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুই দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রসঙ্গত, ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ। কিন্তু কয়েকমাস আগেই ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যার মধ্যে ২৫ শতাংশ কেবল রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করার 'শাস্তি' স্বরূপ। যদিও এরপরও মাথা নত করেনি ভারত। বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে যেকোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারতের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।