সোমবারই গেরুয়া শিবিরের পতাকা হাতে তুলে নিলেন কলকাতার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের এই কাউন্সিলর। যা বিধানসভা ভোটের মুখে কলকাতায় কংগ্রেসের জন্য এক বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বিজেপি সন্তোষ পাঠক
শেষ আপডেট: 23 March 2026 21:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) মুখে কলকাতায় বড়সড় ভাঙন জাতীয় কংগ্রেসে (Congress)। তৃণমূলের প্রবল ঝড়েও যে নেতা নিজের ‘গড়’ অক্ষত রাখতে পেরেছিলেন, সেই দাপুটে কংগ্রেস কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক (Santosh Pathak joined BJP) এবার যোগ দিলেন বিজেপি-তে। সোমবারই গেরুয়া শিবিরের পতাকা হাতে তুলে নিলেন কলকাতার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের এই কাউন্সিলর। যা বিধানসভা ভোটের মুখে কলকাতায় কংগ্রেসের জন্য এক বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সন্তোষ পাঠক দীর্ঘদিন ধরেই মধ্য কলকাতায় কংগ্রেসের একনিষ্ঠ মুখ হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিজেপি-তে যোগদানের সম্ভাবনা তৈরি হতেই গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, এবার ‘চৌরঙ্গী’ বিধানসভা আসনে তাঁকে প্রার্থী করতে পারে বিজেপি। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনেও এই কেন্দ্র থেকে তিনি লড়াই করেছিলেন। যদিও সেবার জয়ের মুখ দেখেননি, কিন্তু কাউন্সিলর হিসেবে এলাকার অলিগলি এবং সংগঠনের নাড়ি-নক্ষত্র তাঁর নখদর্পণে। ফলে চৌরঙ্গী আসনে তাঁকে প্রার্থী করে মধ্য কলকাতায় বড় চমক দিতে চাইছে পদ্ম শিবির।
সোমবার সন্ধ্যায় নিউটাউনে বিজেপি কার্যালয়ে গিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত থেকে পদ্ম পতাকা তুলে নিলেন তিনি। দলবদলের পরেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে সন্তোষের হুঙ্কার, “আমি ব্রাহ্মণ সন্তান। পুজো-অর্চনা যেমন জানি, তেমনই শ্রাদ্ধ করতেও জানি। এবার তৃণমূলের বিসর্জন দেওয়াই আমার লক্ষ্য।”
বেশ কিছুদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, বিধানসভা ভোটের আগে সন্তোষ পাঠক শিবির বদলাতে পারেন। শোনা যায়, তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু তথা প্রদেশ কংগ্রেস নেতা অমিতাভ চক্রবর্তীকেও এই বিষয়ে আগাম আভাস দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া এই কংগ্রেসী নেতা সত্যিই দল ছাড়বেন, তা বোধহয় ভাবতে পারেনি বিধান ভবন।
বিজেপিতে যোগদানের পর নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে সন্তোষ বলেন, “গত নির্বাচনে আমার জেতা আসন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশ আর তৃণমূল যা খুশি করেছে। আমি নিজে চোখে পুলিশকে ছাপ্পা মারতে দেখেছি। আমি বুঝে গিয়েছি, কংগ্রেসের পক্ষে তৃণমূলকে সরানো সম্ভব নয়। একমাত্র নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বেই এই রাজ্য থেকে তৃণমূলকে উৎখাত করা সম্ভব।” আটবারের লড়াইয়ের অভিজ্ঞতাকে সঙ্গী করেই তিনি এবার বিজেপি-র সৈনিক হিসেবে ময়দানে নামছেন বলে জানান।
সন্তোষ পাঠককে পাশে বসিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “সন্তোষবাবু ২২ বছরের কাউন্সিলর। তিনি কোনও দিনই দলবদলের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।”