হাতে পেল্লাই সাইজের কাতলা মাছ, আর মুখে ‘মিথ্যে অপপ্রচারে’র জবাব। রবিবাসরীয় বিধাননগরে এই ছবিই এখন চর্চার পালে হাওয়া দিয়েছে।

কাতলা মাছ হাতে বিধাননগরের বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 22 March 2026 17:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’র পাতে কি থাবা বসাতে চাইছে গেরুয়া শিবির? ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) বাজারে এই চেনা বিতর্ক উসকে দিয়ে বারবার সুর চড়িয়েছে তৃণমূল (TMC)। পাল্টা জবাবে এবার মাছ হাতেই প্রচারে নামলেন বিধাননগরের বিজেপি প্রার্থী (BJP Candidate) শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। হাতে পেল্লাই সাইজের কাতলা মাছ, আর মুখে ‘মিথ্যে অপপ্রচারে’র জবাব। রবিবাসরীয় বিধাননগরে এই ছবিই এখন চর্চার পালে হাওয়া দিয়েছে।
তৃণমূলের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে। এমনকি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একাধিকবার সরব হয়েছেন এই ইস্যুতে। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মঞ্চ থেকেও তিনি তোপ দেগে বলেছিলেন, ‘‘দিল্লি থেকে এসে বাংলা দখল করা যায় না। এরা বাংলার সংস্কৃতি চেনে না বলেই মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলে।’’
বিতর্কের মূলে ছিল এনডিএ শাসিত বিহার সরকারের একটি নির্দেশিকা। সেখানে খোলা জায়গায় মাছ-মাংস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা এবং মোটা টাকা জরিমানার কথা বলা হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই জোড়াফুল শিবির প্রচার শুরু করে যে, বিজেপি বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ও অস্মিতা কেড়ে নিতে চাইছে।
তবে এই ‘আমিষ-তত্ত্ব’ উড়িয়ে দিতে মরিয়া বিজেপি। বিধাননগরের প্রার্থী শারদ্বতবাবু এদিন সটান মাছ হাতে প্রচারে নেমে বলেন, ‘‘আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে কথা বলা হচ্ছে। আমরা মাছ-মাংস সবই খাব। এই অপপ্রচার বন্ধ করতেই আজ মাছ নিয়ে বেরিয়েছি।’’ শুধু শারদ্বত নন, খোদ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও এই বিতর্কে জল ঢেলেছিলেন আগে। ঘোর মৎস্যপ্রেমী শমীকবাবু স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, ‘‘বিবেকানন্দ বলে গিয়েছেন মা কালী পাঁঠা খাবে। বাঙালি-বিহারী সবাই পাঁঠা খাবে। কেউ আটকাতে এলে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেব।’’
এক সময় সভা-সমাবেশ, দেওয়াল লিখন বা মিছিলেই সীমাবদ্ধ ছিল প্রচারের পরিধি। ইদানীং দাপট দেখাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media)। মাধ্যম বদলেছে। লক্ষ্য কিন্তু সেই একই—ভোটারের ড্রয়িংরুম বা হেঁশেলে সেঁধিয়ে যাওয়া। সব ছাপিয়ে দুবরাজপুরের বিজেপি প্রার্থী (BJP Candidate) অনুপ কুমার সাহা বৃদ্ধের দাড়ি কামিয়ে জনসংযোগ সেরেছেন। পুরশুড়ার তৃণমূল প্রার্থী (TMC Candidate) পার্থ হাজারি ভোটারদের বাড়ি গিয়ে রুটি বেলেছেন। এবার সেই তালিকায় নয়া সংযোজন শারদ্বতের মাছ হাতে বেরিয়ে পড়া।
বিধাননগরে ভোটের লড়াইয়ে কার পাল্লা ভারী হবে, তা সময় বলবে। তবে আপাতত সেখানকার অলিগলিতে রাজনৈতিক তরজায় জায়গা করে নিয়েছে কাতলা মাছ। বাঙালির রসনাতৃপ্তির অধিকার আর রাজনীতি, এই ‘জুটি’কে হাতিয়ার করেই প্রচারে বেরিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী।'