বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন - দাবি না মানলে ভোটে তার প্রভাব পড়বে। এই মন্তব্যে দলের অন্দরের অসন্তোষ কতটা গভীর, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, একাধিক আসনে বারবার হারা প্রার্থীকে ফের টিকিট দেওয়া হয়েছে।

বিজেপি অফিস বিক্ষোভ - নিজস্ব ছবি
শেষ আপডেট: 24 March 2026 17:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে প্রার্থী তালিকা ঘোষণাকে ঘিরে অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি (West Bengal BJP)। দু’দফায় প্রার্থী নাম প্রকাশের (BJP Candidate List 2026) পর থেকেই দলের অন্দরে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ শুরু হয়েছে। শুক্রবার কলকাতার সল্টলেকের দলীয় দফতরে বিক্ষোভে (Protest At BJP Party Office) ফেটে পড়েন একাংশ কর্মী-সমর্থক। শনিবারও সেই উত্তাপ বজায় থাকল, যা রাজনৈতিক মহলে বাড়তি তাৎপর্য তৈরি করেছে।
এই বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বিজেপির নেতৃত্বরাই। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ‘সেটিং’ করে টিকিট দেওয়া হয়েছে। সল্টলেকের বিজেপি দফতরের বাইরে এদিনও জড়ো হন বিভিন্ন এলাকার কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের অভিযোগ, যাঁদের প্রার্থী করা হয়েছে, তাঁদের অনেকেই স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নন। ফলে দ্রুত প্রার্থী বদলের দাবি তুলেছেন তাঁরা। শুক্রবার মূল অভিযোগ ছিল বেলেঘাটা, এন্টালি, গোসাবা, খণ্ডঘোষ, কুলপি-সহ একাধিক এলাকার প্রার্থী নিয়ে। আর শনিবার বিজেপি দফতরে বিক্ষোভের কারণ চাঁপদানি, জগ্গদল, বীজপুর, নৈহাটি প্রভৃতি এলাকার প্রার্থী নিয়ে।
বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন - দাবি না মানলে ভোটে তার প্রভাব পড়বে। এই মন্তব্যে দলের অন্দরের অসন্তোষ কতটা গভীর, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, একাধিক আসনে বারবার হারা প্রার্থীকে ফের টিকিট দেওয়া হয়েছে। আবার যাঁদের জেতার সম্ভাবনা বেশি, তাঁদের অন্য আসনে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি টাকার বিনিময়ে টিকিট বিক্রির অভিযোগও তুলেছেন কর্মীদের একাংশ।
প্রসঙ্গত, প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভের ছবি সামনে এসেছে। গত সোমবার আলিপুরদুয়ারে প্রথম বড় বিক্ষোভের ঘটনা সামনে আসে। সেখানে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
এরপর কলকাতার সল্টলেকেও একই চিত্র সামনে আসায় স্পষ্ট, প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে দলের ভিতরে চাপা ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। নির্বাচনের মুখে এই পরিস্থিতি বিজেপির জন্য অস্বস্তিকর বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
উল্লেখ্য, প্রথম দফায় ১৪৪টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছিল বিজেপি। পরে দ্বিতীয় দফায় আরও ১১১ জনের নাম প্রকাশ করা হয়। তবে তৃতীয় দফার আগে এই বিক্ষোভ পরিস্থিতি দলের সাংগঠনিক সংহতির উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।