সিপিএম নেতার বাড়িতে ভোট চাইতে গিয়ে রীতিমতো ‘চমক’ দিলেন অগ্নিমিত্রা। লাল ঝান্ডা ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন আসানসোলের দাপুটে বাম নেতার ছেলে গোপাল বাদ্যকর।

অগ্নিমিত্রা পাল
শেষ আপডেট: 22 March 2026 14:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবাসরীয় সকালে আসানসোলের উষাগ্রামে প্রচারের ময়দানে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul BJP)। বাড়ি বাড়ি ঘুরে জনসংযোগ, আশীর্বাদ নেওয়া— সবই চলছিল চেনা ছন্দে। কিন্তু প্রচারের মাঝপথেই যে এমন এক ‘পলিটিক্যাল ড্রামা’ অপেক্ষা করছে, তা হয়তো অতি রক্ষণশীল বাম নেতাও আঁচ করতে পারেননি। সিপিএম নেতার বাড়িতে ভোট চাইতে গিয়ে রীতিমতো ‘চমক’ দিলেন অগ্নিমিত্রা। লাল ঝান্ডা ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন আসানসোলের দাপুটে বাম নেতার ছেলে গোপাল বাদ্যকর।
এ দিন উষাগ্রামে ভোটপ্রচারের (West Bengal Assembly Election 2026) সময় আচমকাই অগ্নিমিত্রার সামনে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা গোপালবাবু। এলাকাটি বামপন্থীদের দীর্ঘদিনের চারণভূমি হিসেবে পরিচিত। গোপালের বাবা মতীশ বাদ্যকর আসানসোল পুরনিগমের ৩৪ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের টানা দশ বছরের সিপিএম (CPIM) কাউন্সিলর ছিলেন। বাম জমানায় সামলেছেন বোরো চেয়ারম্যানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও। সেই পরিবারের উত্তরাধিকারীর হাতেই এ দিন তুলে দেওয়া হয় বিজেপির (BJP) পতাকা।
পদ্মশিবিরে যোগ দিয়েই গোপাল বাদ্যকর জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আদর্শ এবং বিজেপির নীতিই তাঁকে টেনেছে। তবে আলাদা করে প্রশংসা করেছেন অগ্নিমিত্রারও। তাঁর কথায়, “অগ্নিমিত্রা পালের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং সংগঠন পরিচালনার ক্ষমতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। বর্তমান দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে হঠাতে এবং রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়তে সপরিবারে এই সিদ্ধান্ত নিলাম।”
স্বভাবতই এই দলবদলকে হাতিয়ার করে প্রচারে বাড়তি অক্সিজেন পেয়েছেন অগ্নিমিত্রা। তিনি বলেন, “মানুষ এখন বুঝতে পারছে যে একমাত্র বিজেপিই পারে প্রকৃত উন্নয়ন আনতে। শুধু সাধারণ মানুষ নন, অন্য দল থেকেও মানুষ এখন সততার টানে বিজেপির পতাকা হাতে নিচ্ছেন।”
এর আগে প্রচারে বেরিয়ে বল্লভপুর পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচারে বেরিয়ে এই অগ্নিমিত্রাই কথা কাটাকাটিতে জড়িয়েছিলেন। হাটতলা এলাকায় প্রচার চলাকালীন তাঁর মুখোমুখি হন এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা বল্লভপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সিদান মণ্ডল। দুই যুযুধান শিবিরের নেতার কথোপকথনে সরগরম হয় শিল্পাঞ্চল।
ওই দিন দলীয় কর্মীদের নিয়ে বল্লভপুর হাট-বাজারে জনসংযোগ করছিলেন অগ্নিমিত্রা। সেই সময় বাজারে সবজি কিনছিলেন সিদান মণ্ডল। তাঁকে দেখেই এগিয়ে যান বিজেপি প্রার্থী। শুরু হয় দু'জনের কথা। অগ্নিমিত্রা পাল, তৃণমূল নেতাকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘‘আপনাকে সত্যের পথে থাকতে হবে। সত্যের পথে থাকতে হবে সব সময়, সাপোর্ট করতে হবে।’’ জবাবে সিদান মণ্ডল পাল্টা দাবি করেন, ‘‘সত্যের পথে আছি বলেই তো রাজনীতিতে এখনও টিকে আছি। ২০০৮ সাল থেকে প্রশাসনে আছি আমি। একটাও উল্টোপাল্টা কথা শুনেছেন আমার কাছে কোনওদিন?’’
তর্ক গড়ায় ধর্ম ও আদর্শের লড়াইয়ে। অগ্নিমিত্রা সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেন, ‘‘অধর্মের কাজ কিন্তু হচ্ছে। হিন্দুদের মারা হচ্ছে। সত্যের পথে থাকতে হবে এটুকুই বললাম।’’ দমে না গিয়ে সিদান বলেন, ‘‘আপনার রাজনীতি আলাদা, আমার রাজনীতি আলাদা। আমি রাজনীতি করি, রাজনীতির জায়গায় রাজনীতি হবে। রাজনীতি আপনি করছেন, আমিও করছি কিন্তু রাজনীতির মাটি ছাড়ব না। তবে কোনও নোংরা কাজে আমি নেই।’’