সকালে জনসংযোগে বেরিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা। সেই সময়ই তাঁর সঙ্গে দেখা হয় পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সিদান মণ্ডলের। প্রথমে দু’জনের মধ্যে সৌজন্য বিনিময় হয়। কিন্তু সেই সৌজন্যের পরই কথার সুর পাল্টাতে সময় লাগেনি।

অগ্নিমিত্রা পাল
শেষ আপডেট: 18 March 2026 11:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণার (West Bengal Assembly Election 2026) পর রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ দ্রুত চড়ছে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি ইতিমধ্যেই প্রার্থী তালিকা (TMC BJP Candidate List 2026) প্রকাশ করেছে। বিজেপি ও বাম শিবির এক দফা নাম ঘোষণা করলেও তৃণমূল কংগ্রেস একসঙ্গে সব আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। সেই আবহেই শুরু হয়েছে জোর প্রচার, আর তার মধ্যেই সামনে এল তৃণমূল ও বিজেপি নেতার সরাসরি বাক্যবিনিময়ের ছবি।
মঙ্গলবার আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রে প্রচারে বেরিয়ে মুখোমুখি হন বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) এবং তৃণমূলের স্থানীয় নেতা সিদান মণ্ডল (Sidan Mondal)। রানিগঞ্জ ব্লকের বল্লভপুর পঞ্চায়েত এলাকার হাটতলায় তাঁদের বাকবিতণ্ডার ঘটনাটি ঘটে।
সকালে জনসংযোগে বেরিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা। সেই সময়ই তাঁর সঙ্গে দেখা হয় পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সিদান মণ্ডলের। প্রথমে দু’জনের মধ্যে সৌজন্য বিনিময় হয়। কিন্তু সেই সৌজন্যের পরই কথার সুর পাল্টাতে সময় লাগেনি।
অগ্নিমিত্রা পাল প্রথমেই তির্যক মন্তব্য করে বলেন, ‘সত্যের পথে থাকুন। সত্যের পথে থাকতে হবে।’ তাঁর এই মন্তব্যের জবাবে সিদান মণ্ডল পাল্টা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই সেই পথেই রয়েছেন। তাঁর দাবি, ২০০৮ সাল থেকে প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত থেকে কাজ করছেন এবং কখনও তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ওঠেনি।
এই পর্যায়ে অগ্নিমিত্রা সরাসরি অভিযোগ তোলেন, রাজ্যে অন্যায় কাজ চলছে এবং বিশেষ করে হিন্দুদের উপর আক্রমণের ঘটনা ঘটছে। এই বক্তব্যের পাল্টা জবাবে সিদান বলেন, একই অভিযোগ বারবার তোলা হচ্ছে, তবে গত পাঁচ বছরে তাঁদের কাজ সম্পর্কে মানুষ অবগত। তিনি আরও জানান, নির্বাচনের জন্য তাঁরা প্রস্তুত এবং মানুষের রায়ই শেষ কথা বলবে।
পরে সংবাদমাধ্যমে অগ্নিমিত্রা দাবি করেন, রাজ্যে শিল্প নেই, উন্নয়নের ছোঁয়া পর্যন্ত দেখা যায় না। গ্রামীণ এলাকায় পানীয় জলের অভাব, তাও সরকারের কোনও হেলদোল নেই। এই পরিস্থিতির বদল প্রয়োজন। পাল্টা সিদানের বক্তব্য, বিজেপি শুধুমাত্র মেরুকরণ করে রাজ্যকে দখল করতে চাইছে। পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি রাজ্য, যেখানে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করেন। তাই কেউ বিজেপির মিথ্যাচারে পা দেবেন না।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোট যত এগোবে, ততই এ ধরনের মুখোমুখি পরিস্থিতি বাড়তে পারে। কারণ, মাঠের লড়াই এখন কেবল প্রচারে সীমাবদ্ধ নয়, তা ছড়িয়ে পড়ছে প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সংঘাতে।