১৩ জন দোষীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১৫ লক্ষ টাকা জরিমানার সাজা শোনাল জঙ্গিপুর মহকুমা আদালত (Jangipur Court)।

সামশেরগঞ্জে বাবা-ছেলেকে খুনের ঘটনায় ১৩ জনেরই যাবজ্জীবন
শেষ আপডেট: 23 December 2025 17:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামশেরগঞ্জে (Samsherganj) হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসকে খুনের (Samsherganj Murder Case) ঘটনায় ১৩ জন দোষীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১৫ লক্ষ টাকা জরিমানার সাজা শোনাল জঙ্গিপুর মহকুমা আদালত (Jangipur Court)।
ওয়াকফ আইন সংশোধনী (Waqf Amendment Act) নিয়ে বিক্ষোভ চলাকালীন গত ১২ এপ্রিল বাবা হরগোবিন্দ দাস ও ছেলে চন্দন দাসকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। এই ঘটনায় তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় গোটা রাজ্যে (West Bengal News)। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সিট গঠন করে জেলা পুলিশ। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পর শুরু হয় বিচারপ্রক্রিয়া। ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ পর্যন্ত শুনানি চলে। সোমবার বিচারক অমিতাভ মুখোপাধ্যায় বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
খুনের ঘটনার পর থেকেই গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁদের উপর হামলা চালিয়ে প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং একে একে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। এই মামলায় দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিপুর আদালতে শুনানি চলে।
একাধিক সাক্ষী, ফরেনসিক রিপোর্ট, পুলিশি তদন্ত রিপোর্ট এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানায়। বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন আদালতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য উঠে আসে, যা মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয় বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশের তদন্তে উঠে আসে যে, অভিযুক্তরা বাড়ির দরজা ভেঙে বাবা-ছেলেকে টেনে বের করে রাস্তায় কুপিয়ে হত্যা করে। চার্জশিটে ৯৮৩ পৃষ্ঠার বিস্তারিত বিবরণে এই নৃশংসতার ছবি ফুটে ওঠে। রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম (এসআইটি) ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট জমা দেয়, যাদের সকলকেই গ্রেফতার করা হয়েছিল।
খুনের ঘটনায় রাজনীতিও কম হয়নি। তবে পুলিশ প্রথম থেকে জানিয়ে এসেছে, ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে এই খুন হয়েছে। রাজনৈতিক বা অন্য কোনও কারণ নেই। চার্জশিটেও তা উল্লেখ করেছিল পুলিশ।
মোট ৩৮ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণের ভিত্তিতে দীর্ঘ শুনানির পর এদিন জঙ্গিপুর আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয় ওই ১৩ জনকে। এদিন রায় ঘোষণার দিন থাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল জঙ্গিপুর আদালত চত্বরে। কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় ধৃতদের নিয়ে আসা হয় আদালতে। ধৃতদের দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারক অমিতাভ মুখার্জি।