রাস্তায় আলো নেই, নজরদারি নেই, ফলে বিপদের আশঙ্কা দ্বিগুণ। স্থায়ী আলো আর রাতের টহলের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।

এআই ছবি।
শেষ আপডেট: 28 November 2025 12:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মৈপীঠ (Maipith, Sundarban) আবারও কাঁপছে বাঘের ছায়ায় (Royal Bengal Tiger)!
ভোরের আলো ফোটার আগেই কিশোরীমোহনপুর শ্রীকান্তপল্লির জঙ্গল লাগোয়া রাস্তায় একের পর এক তাজা পায়ের ছাপ, আর রাতের আঁধারে বিকট গর্জন—দু’য়ের জোড়া আঘাতে আতঙ্ক ((Fear)। ) ছড়িয়েছে গোটা গ্রামজুড়ে। সন্ধ্যা নামতেই দরজা-জানলা বন্ধ করে ঘরে সিঁটিয়ে বসে পড়েছেন মানুষজন। যেন অদৃশ্য কারও নজর সব সময় তাদের পিছনে।
বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আজমলমারি ১১ নম্বর জঙ্গল এলাকা থেকে বাঘটি নাকি মাঝরাতে বেরিয়ে আসে। ঠাকুরাণ নদীর একটি শাখা পেরিয়ে ঢুকে পড়ে মানুষের বসতিতে। খবর ছড়াতেই তোলপাড় মৈপীঠ। ছুটে আসে বনকর্মী, টাইগার রেসকিউ টিম এবং মৈপীঠ উপকূল থানার পুলিশ। নদীপথে শুরু হয় পেট্রলিং। কখন, কোথায়, কোন ছায়ায় বাঘ লুকিয়ে আছে—তার খোঁজে তল্লাশি চলেছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।
গ্রামবাসীদের মুখে আতঙ্কের ভাষা স্পষ্ট। মঙ্গলারানি পুষ্টি জানান, “ভোরে আবর্জনা ফেলতে গিয়েই দেখি বড় বড় পায়ের ছাপ! আমাদের ঘরের পাশেও ওই ছাপ! মানে বাঘ ঘরের দুয়ার পর্যন্ত চলে এসেছিল!”
শম্ভুচরণ সিটের কথা আরও উদ্বেগ বাড়ায়, “গত বছরেও এই সময় একটা বাঘ ঢুকেছিল। রাস্তায় আলো নেই। মনে হচ্ছে হঠাৎ সামনে এসে দাঁড়াবে! আতঙ্কে ঘরের বাইরে বেরোতেই ভয় লাগছে।”
আতঙ্কের মাঝেই গ্রামবাসীরা নিজেরাই রাতপাহারার বন্দোবস্ত করেছেন। লাঠি হাতে দল বেঁধে ঘুরছেন গ্রামের পুরুষেরা। তাঁদের সাফ কথা, “বাঘকে যেন গ্রামের ভিতরে ঢুকতে না পারে, সে জন্যই এই পাহারার ব্যবস্থা।”
বনদফতরের তরফে অবশ্য বাঘকে জঙ্গলে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। রাতে পটকা ফাটানোর প্রস্তুতি রয়েছে। তাদের অনুমান—খাদ্যের খোঁজেই লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে বাঘটি। এ-ও বলছেন অনেকে, গত কয়েক বছরে এই জঙ্গল-সংলগ্ন গ্রামগুলিতে বারবার বাঘের গতিবিধি নজরে এসেছে।
অভিযোগও উঠছে—রাস্তায় আলো নেই, নজরদারি নেই, ফলে বিপদের আশঙ্কা দ্বিগুণ। স্থায়ী আলো আর রাতের টহলের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
তবে বাঘ এখন কোথায়? জঙ্গলে ফিরে গিয়েছে, না এখনও ছায়ার মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে মানুষের বাড়িঘরের পাশেই? বনদফতর এখনও কিছু জানায়নি। তাই গ্রামে ভয় আরও ঘনীভূত। রাত নামলেই নিস্তব্ধতা ভেদ করে সেই অজানা গর্জনের অপেক্ষা!