ডাকাতির সোনা বিক্রি করার জন্য ডাকাতেরা খুলে ফেলেছিল আস্ত সোনার দোকান। শুধু তাই নয়, ডাকাতির সোনা দ্রুত বিক্রির জন্য গ্রাহকদের দেওয়া হত ডিসকাউন্টও।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 8 October 2025 20:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডাকাতির সোনা বিক্রি করার জন্য ডাকাতেরা খুলে ফেলেছিল আস্ত সোনার দোকান। শুধু তাই নয়, ডাকাতির সোনা দ্রুত বিক্রির জন্য গ্রাহকদের দেওয়া হত ডিসকাউন্টও। তমলুকের মিলননগর বাজারের এক সোনার দোকানের ডাকাতির তদন্তে নেমে ৮০ কিমি পথ উজিয়ে ১৭২টি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একে একে রহস্যভেদ করল পুলিশ। আর সেই তদন্তেই এবার উঠে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য, ডাকাতচক্রের অন্যতম মাথা এক নামী জুয়েলারির মালিক!
ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগেই, তমলুকের মিলননগর বাজারের এক সোনার দোকানে সশস্ত্র তিন দুষ্কৃতীর হানা। দিনদুপুরে, দোকান কর্মীকে আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বেঁধে রেখে লুট করা হয় কয়েক লক্ষ টাকার গয়না। ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। তদন্তে নেমে একে একে ধরা পড়ে তিন অভিযুক্ত—পাঁশকুড়ার বাপ্পাদিত্য বাগ, দিলীপ মাইতি ও দাসপুরের সোনার দোকান মালিক শ্রীকান্ত মাঝি। আর তাঁদের জেরাতেই খুলে যায় চক্রের আসল রূপরেখা।
সিসিটিভি ফুটেজ ঘেঁটে দেখা যায়, ডাকাতির পরে অভিযুক্তেরা খারুই ও কোলাঘাট হয়ে বাইক ও পোশাক বদলাতে বদলাতে পালিয়ে যায় দাসপুরের দিকে। আর ঠিক এখানেই উঠে আসে নতুন নাম—দাসপুরের খুকুড়দহ লক্ষ্মীবাজারের ‘জয়ন্তী জুয়েলার্স’-এর মালিক দেবাশিস সামন্ত এবং গোপিগঞ্জের এক স্বর্ণ দোকানের ম্যানেজার সুশান্ত মাজি।
সোমবার দুপুরে দাসপুর থানা ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে ধরা পড়ে এই দুই সোনার ব্যবসায়ী। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় দেড়শো গ্রাম সোনা। জেলা পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, উদ্ধার হয়েছে কিছু সোনাও। তদন্ত চলছে বাকিদের খোঁজে।
চমক আরও আছে। তদন্তে উঠে এসেছে, দাসপুরের দোকানটিতে সোনার গয়নায় নিয়মিতই চলত ‘বিশেষ ডিসকাউন্ট’। কিন্তু সেই ছাড়ের নেপথ্যে যে এমন ‘অন্ধকারের সোনা’, তা কল্পনাও করতে পারেননি ক্রেতারা। দোকানের এক পুরনো খরিদ্দার বলছেন, “এমন ডিসকাউন্ট তো অন্য কোথাও মেলেনি। কিনেছি নিশ্চিন্তে। এখন শুনছি ওগুলো নাকি লুটের সোনা! এটা ভাবলে গায়ে কাঁটা দেয়।”
অন্যদিকে ধৃত দেবাশিসের দাবি, তিনি ব্যবসা করেছেন সমস্ত নিয়ম মেনেই। তবে পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত—এই ‘রেগুলার ডিসকাউন্ট’-এর আড়ালেই চলত লুটের মাল কেনাবেচার গোপন কারবার।