ফুঁসছে নদী। দক্ষিণবঙ্গের বড় অংশে ফের ২০১৭ বা ২০২১ সালের বন্যার স্মৃতি ফিরে আসার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 11 July 2025 19:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাগাতার বৃষ্টিতে (Heavy Rain) উদ্বেগ বাড়ছে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়। ইতিমধ্যেই দামোদর ভ্যালির (DVC) জলস্তর বিপজ্জনক হারে বাড়তে শুরু করেছে। তার মধ্যেই শুক্রবার সকালেই পাঞ্চেত থেকে ছাড়া হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক জল। মাইথন থেকেও ছাড়া হয়েছে আরও ১০ হাজার কিউসেক। সব মিলিয়ে দুর্ভাবনার মেঘ ঘনাচ্ছে দামোদর সংলগ্ন দক্ষিণবঙ্গের (South Bengal) জেলাগুলিতে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, শুধু এই সপ্তাহ নয়, আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকেও চলবে দফায় দফায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি। এরই মধ্যে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে শুক্রবার সকালেই ছাড়া হয়েছে ৫৩,০২৫ কিউসেকের বেশি জল। বৃষ্টিতে জলের চাপে বিপর্যস্ত হতে পারে পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া ও বাঁকুড়ার একাধিক নিচু অঞ্চল।
গত ২৪ ঘণ্টায় দুর্গাপুরে ৩৭.২০ মিলিমিটার ও আসানসোলে ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের মতে, ঝাড়খণ্ডে বর্ষার আরও দাপট বাড়লে দামোদরের জলস্তর নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ, সেখানকার অতিবৃষ্টি সরাসরি প্রভাব ফেলে মাইথন-পাঞ্চেত জলাধারে।
ডিভিসি সূত্রে খবর, ক্রমশই বাড়ছে দামোদরের জল। দীর্ঘদিন ড্রেজিং না হওয়ার কারণে নদীর জলধারণ ক্ষমতা কমেছে। নদীর বুক জুড়ে জমেছে পলি, কোথাও কোথাও চড়া পড়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, বহুবার কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রকের কাছে এ বিষয়ে জানানো হলেও কার্যত কোনও সুরাহা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর এমন পরিস্থিতিতে অতিবৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত জলছাড় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে। বিশেষ করে হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া ও বাঁকুড়ার মতো জেলা এখন রীতিমতো বিপদের মুখে।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণবঙ্গের বড় অংশে ফের ২০১৭ বা ২০২১ সালের বন্যার স্মৃতি ফিরে আসার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের তরফে নিচু এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে নতুন করে ডিভিসি জল ছাড়লে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলেই আশঙ্কা স্থানীয়দের।