অডিও ক্লিপে শোনা যায় বোলপুর থানার আইসি-কে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করছেন বীরভূম জেলার প্রাক্তন জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। সেই গালমন্দের বহর এমনই যে কান পাতা দায়।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 11 July 2025 18:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বীরভূমের তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Anubrata Mondal Viral Audio Case) তদন্তে বীরভূমের পুলিশ সুপারকে (Superintendent of Police , Birbhum) সাময়িক স্বস্তি দিল হাইকোর্ট (Calcutta High court)। পুলিশ কর্তার আবেদনের ভিত্তিতে আদালত জানিয়েছে, আগামী ১৪ জুলাই বেলা ১২টার সময় ভার্চুয়ালি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মুখোমুখি হতে হবে পুলিশ সুপারকে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নথি ডিজিটালই পাঠাতে হবে।
এদিন মামলার শুনানিতে জাতীয় মহিলা কমিশনের পক্ষ থেকে আইনজীবী আদালতে বলেন, পুলিশ কর্তাকে দিল্লিতে গিয়ে সশরীরে কমিশনের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হোক। যদিও পুলিশ সুপারের আইনজীবী ওই আবেদনের বিরোধিতা করেন। একই সঙ্গে তিনি আদালতকে বলেন, 'জাতীয় মহিলা কমিশনের লেখা চিঠিতে ভাষা সম্পর্কে সংযম হওয়া উচিত ছিল। একজন পাবলিক সার্ভেন্ট আর একজন পাবলিক সার্ভেন্টকে কখওই অপমানিত করতে পারে না।'
এরপরই আদালত জানিয়ে দেয়, আপাতত সশরীরে দিল্লি যেতে হবে না, ভার্চুয়ায় শুনানিতে হাজির হতে হবে পুলিশ সুপারকে।
ঘটনার সূত্রপাত মে মাসের শেষে। সোশাল মিডিয়ায় একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল (Viral Audio Clip) হয়। (দ্য ওয়াল সেই অডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করেনি)। অডিও ক্লিপে শোনা যায় বোলপুর থানার আইসি-কে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করছেন বীরভূম জেলার প্রাক্তন জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। সেই গালমন্দের বহর এমনই যে কান পাতা দায়। শুধু সেই পুলিশ অফিসার নয়, অভিযোগ, ফোনে গালমন্দ করার সময়ে তাঁর স্ত্রী ও মা'র সম্পর্কেও নোংরা কথা বলেছেন অনুব্রত মণ্ডল।
ঘটনার পর বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, আইসি লিটন হালদারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিএনএস আইনের চারটি ধারায় অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই ধারা গুলি হল ২২৪, ১৩২, ৩৫১ ও ৭৫। অনুব্রতর বিরুদ্ধে পুলিশ জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে। তাঁকে তলবও করা হয়। কিন্তু আইন মেনে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে পুলিশ কেন কোনও পদক্ষেপ করল না, তা জানতে চেয়ে গত ২৫ জুন বীরভূমের এসপিকে নোটিস পাঠিয়েছিল জাতীয় মহিলা কমিশন।
এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য বীরভূমের এসপিকে ১ জুলাই বেলা ১২টার মধ্যে দিল্লিতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। কোনও কারণে এসপি হাজিরা না দিতে পারলে বোলপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বা এসডিপিও-কে প্রয়োজনীয় নথিসহ উপস্থিত থাকার কথাও বলা হয়েছিল। কমিশনের তরফে পরিষ্কারভাবে একথাও বলা হয়েছিল যে, হাজিরা না দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপরই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল বীরভূম জেলা পুলিশ।