বুধবার দিনভর জলপাইগুড়ি সদর, ময়নাগুড়ি ও ধুপগুড়ির সমস্ত ত্রাণ শিবিরে ঘুরে বেড়ান বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। আমগুড়িতে সাংসদকে দেখে এক বাসিন্দাকে দেখা গেল তাঁর পা জড়িয়ে ধরতে। পায়ে পড়ে একটা ঘর করে দেওয়ার জন্য আকুতি জানান তিনি।

শেষ আপডেট: 9 October 2025 13:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: শনিবারের আকাশভাঙা বৃষ্টিতে নিমেষে নেই হয়ে গেছে সংসার। চোখের সামনে তলিয়ে যেতে দেখেছেন ঘরবাড়ি। কোথাও ঘর ভেসেছে ক্যারণ ও কালিখোলা নদীর জলে। কোথাও বাড়ি-ঘর ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সুখানি নদী। হাতিনালা নদী ভাসিয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। তিস্তা-তোর্ষা-বালাশন নদীও গ্রাস করেছে লোকালয়। ঘরহারা মানুষগুলি এখন আশ্রয় নিয়েছেন বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে।
আপাতত ত্রাণশিবিরে খাবার-চিকিৎসা সবকিছু সুযোগ সুবিধা মিলছে। কিন্তু দুশ্চিন্তা গ্রাস করেছে আশ্রয় নেওয়া মানুষগুলিকে। এতদিনের সাধের সংসার ভাসিয়ে নিয়ে গেছে নদী। এবারতো আর দাঁড়ানোর জায়গা নেই। কোথায় আবার সংসার পাতবেন!
বুধবার দিনভর জলপাইগুড়ি সদর, ময়নাগুড়ি ও ধুপগুড়ির সমস্ত ত্রাণ শিবিরে ঘুরে বেড়ান বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। আমগুড়িতে সাংসদকে দেখে এক বাসিন্দাকে দেখা গেল তাঁর পা জড়িয়ে ধরতে। পায়ে পড়ে একটা ঘর করে দেওয়ার জন্য আকুতি জানান তিনি। বলেন, "গরীব মানুষ, অনেক কষ্টে যে মাথা গোঁজার আস্তানাটা করেছিলাম তা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে নদী। এই ত্রাণ শিবিরে আর কতদিন! প্রধানমন্ত্রীকে বলে একটা ঘর করে দিন।"
প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানান, এই দুর্গত মানুষদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে এক হাজার ন'শো কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সেই টাকা যদি এরা পায় প্রত্যেকের ঘর হয়ে যাবে। একই সঙ্গে রাজ্যকেও হাত বাড়াতে বলেন তিনি। বলেন, "আমি মুখ্যমন্ত্রীকে বলব এদের জন্য ইনস্ট্যান্ট আবাস যোজনার ব্যবস্থা করুন। আধিকারিকদের পাঠান, তাঁরা ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে যাঁদের যাঁদের বাড়ি ভেঙে গেছে তাঁদের জন্য বাড়ি স্যাংশন করুক। প্রথম কিস্তির টাকা যেন সাতদিনের মধ্যে তাঁদের অ্যাকাউন্টে ঢুকে যায়।"
গত শনিবারের অতিবৃষ্টি এবং ধসের জেরে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত। সোমবার থেকে উত্তরবঙ্গেই ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার কলকাতায় ফিরেই কেন্দ্রকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, "বলতে খারাপ লাগছে, ভোটের জন্য টাকা আছে, ত্রাণের জন্য টাকা নেই, এটাই এই সরকারের নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।"