বুধবার যাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল তাদের নাম এফআইআর-এ ছিল না। আর পরে যাদের গ্রেফতার করা হল তাদের নাম এফআইআর-এ আছে কিনা তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 October 2025 10:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরাকাটায় (Nagrakata Incident) বিজেপির সাংসদ-বিধায়কের (BJP MP-MLA) ওপর হামলার ঘটনায় বুধবার মূল অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার (Arrest) করেছিল পুলিশ। বৃহস্পতিবার আরও দু'জন গ্রেফতার হল। সব মিলিয়ে গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি এখনও জারি রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার যাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল তাদের নাম এফআইআর-এ (FIR) ছিল না। আর পরে যাদের গ্রেফতার করা হল তাদের নাম এফআইআর-এ আছে কিনা তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুত ঘটনার অন্য অভিযুক্তদেরও গ্রেফতার করা হবে। এই চার ধৃতদের নাম - সাহানুর আলম, তোফায়েল হোসেন, একরামূল হক এবং গোবিন্দ শর্মা।
গত সোমবার নাগরাকাটায় ত্রাণ বিলি করতে গিয়ে আক্রান্ত হন বিজেপির সাংসদ খগেন মুর্মু (Khagen Murmu) এবং বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh)। গুরুতর চোট পেয়েছেন সাংসদ, চোখের নীচের হাড় ভেঙেছে। উত্তরবঙ্গের এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। এদিকে দু'দিন হাসপাতালে থাকার পর শঙ্কর ঘোষ ছাড়া পেলেও তাঁকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলতে একচুল পিছু হটছে না গেরুয়া শিবির। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কটাক্ষ, “পুলিশের উপস্থিতিতে তৃণমূলের লোকজন হামলা চালিয়েছে। এখন পরিস্থিতি সামলাতে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, কিন্তু আমরা জানি, এই পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করবে না। তাই এনআইএ তদন্ত চাই। সেখানেই আমরা অনড়।”
তবে এই হামলার পিছনে বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলই দায়ী কি না, সেই প্রশ্ন ছুড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতায় ফিরে তিনি বলেন, “চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম! ঘটনা ঘটেছে বিজেপি অধ্যুষিত এলাকায়, এমপি, এমএলএ—সবই বিজেপির। তাহলে দায় কার?”
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, মঙ্গলবার হাসপাতালে গিয়ে খগেন মুর্মুর সঙ্গে দেখা করার পরেই যে পাল্টা রাজনৈতিক বার্তা তৈরি হচ্ছিল, তা স্পষ্ট করেই দিয়ে দিলেন মমতা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খগেন মুর্মুর উপর হামলার ঘটনায় বিজেপিকে ঘায়েল করতে নতুন স্ট্র্যাটেজি নিয়েছে তৃণমূল। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সরাসরি আক্রমণের জবাবে মুখ্যমন্ত্রীর এই কৌশলী পাল্টা বক্তব্য যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে, তা বলাই বাহুল্য।
সব মিলিয়ে নাগরাকাটার ঘটনায় গ্রেফতারি হলেও রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে।