তাঁর (Khagen Murmu) চোখের নীচের হাড় ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে, অস্ত্রোপচার করে পাত বসাতে হবে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে সেই অস্ত্রোপচার এইমসে করালে ভাল হবে কিনা, সেটাই আলোচনা চলছে বিজেপি-র অন্দরে। সূত্রের খবর, এইমসে কথাও বলা হয়েছে শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে। সব ঠিক থাকলে খগেনকে নিয়ে যাওয়া হবে সেখানেই।

খগেন মুর্মু।
শেষ আপডেট: 7 October 2025 15:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকাল ভয়ানক হামলার পরে, খগেন মুর্মুর (Khagen Murmu) শারীরিক অবস্থার নতুন করে তেমন কোনও অবনতি না হলেও, পুরোপুরি নিশ্চিন্তও হওয়া যাচ্ছে না। তাই, আজ, মঙ্গলবারের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, খগেন মুর্মুকে দিল্লির এইমসে (AIIMS) নিয়ে যাওয়া হবে কিনা।
মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু আপাতত শিলিগুড়ির (Siliguri) এক বেসরকারি হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (CCU) চিকিৎসাধীন। চিকিৎসক মহলের সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর একাধিক মেডিক্যাল টেস্ট চলছে। তাঁর চোখের নীচের হাড় ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে, অস্ত্রোপচার করে পাত বসাতে হবে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে সেই অস্ত্রোপচার এইমসে করালে ভাল হবে কিনা, সেটাই আলোচনা চলছে বিজেপি-র অন্দরে। সূত্রের খবর, এইমসে কথাও বলা হয়েছে শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে। সব ঠিক থাকলে খগেনকে নিয়ে যাওয়া হবে সেখানেই।
গতকাল, সোমবার উত্তরবঙ্গের বন্যাবিধ্বস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শনের সময় ভয়াবহ হামলার শিকার হন সাংসদ খগেন মুর্মু ও শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওয় দেখা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় গাড়িতে বসে আছেন খগেন মুর্মু, প্রায় অচেতন। নাক-মুখে রক্ত, ভেসে যাচ্ছে পোশাক। সেই গাড়িতেই রয়েছেন আহত শঙ্কর ঘোষও।
নাগরাকাটার দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘুরে দেখছিলেন দুই বিজেপি নেতা। বামনডাঙার কাছে পৌঁছতেই বিক্ষোভের মুখে পড়েন তাঁরা। অভিযোগ, স্থানীয় কিছু মানুষ লাঠি, জুতো, এমনকি নদী থেকে পাথর তুলে তাঁদের গাড়িতে ছুড়ে মারেন। তাতেই গুরুতর জখম হন সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। বিজেপির পক্ষ থেকে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং দলটির দাবি—“এটি তৃণমূলের চক্রান্ত।” যদিও তৃণমূলের তরফে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ঘনার পর একদিন কেটে গেলেও হামলাকারীরা এখনও অধরা।
বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব জানিয়েছে, দু’জনেই হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “খগেনবাবুর অবস্থা উদ্বেগজনক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চোখের নীচের হাড়ে ফাটল ধরা পড়েছে, অস্ত্রোপচার প্রয়োজন।”

মঙ্গলবার চিকিৎসক দলের পরামর্শের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। বিজেপির রাজ্যস্তরের নেতৃত্বও শিলিগুড়িতে গিয়ে সাংসদের শারীরিক অবস্থার খবর নিচ্ছেন ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলছেন।
অন্যদিকে, আহত বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় উন্নত। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “ওঁর অবস্থা এখন স্থিতিশীল। মঙ্গলবার দুপুরে এমআরআই রিপোর্ট হাতে এলেই হাসপাতাল থেকে কবে ছাড়া যেতে পারে, তা ঠিক করা হবে।”