চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে দিল্লির এইমসে (AIIMS) স্থানান্তরিত করার বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

খগেন মুর্মু
শেষ আপডেট: 7 October 2025 10:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শারীরিক অবস্থার তেমন অবনতি না হলেও শরীর মোটেই ভাল নেই মালদহ উত্তরের বিজেপি (BJP) সাংসদ খগেন মুর্মুর (Khagen Murmu Health Update)। আপাতত শিলিগুড়ির এক বেসরকারি হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন তিনি। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে দিল্লির এইমসে (AIIMS) স্থানান্তরিত করার বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
গত সোমবার উত্তরবঙ্গের বন্যাবিধ্বস্ত (North Bengal Flood) এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে ভয়াবহ হামলার শিকার হন দুই বিজেপি নেতা, মালদহের সাংসদ খগেন মুর্মু ও শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। ঘটনার পর ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওয় দেখা যায়, খগেন মুর্মুর নাক-মুখ রক্তাক্ত, রুমাল ও গামছা রক্তে ভিজে যাচ্ছে। তাঁর পাশে আহত অবস্থায় দেখা যায় বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকেও।
বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে, দুই নেতা এখন হাসপাতালে ভর্তি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, খগেন মুর্মুর আঘাত গুরুতর। তাঁর চোখের নীচের হাড়ে ফাটল ধরা পড়েছে এবং অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। শুভেন্দুর কথায়, “ওঁর অবস্থা উদ্বেগজনক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চোখের নীচের অংশের হাড়ে গুরুতর চোট লেগেছে। অপারেশন করতেই হবে।”

অস্ত্রোপচার শিলিগুড়িতেই হবে কি না তা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এদিন সাংসদের বেশ কয়েকটি মেডিক্যাল টেস্ট করা হবে এবং চিকিৎসক দলের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। বিজেপির রাজ্যস্তরের শীর্ষ নেতৃত্বও খগেনের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে হাসপাতাল নির্বাচনের বিষয়টি ঠিক করবেন।
অন্যদিকে, বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানিয়েছেন, তিনি এখন ‘আউট অব ডেঞ্জার’। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর এমআরআই স্ক্যান হওয়ার কথা, এরপর চিকিৎসকেরা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কবে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
সোমবার সকালে দুর্যোগকবলিত নাগরাকাটায় একাধিক এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু এবং শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। বামনডাঙায় ঢোকার আগে বিক্ষোভের মুখে পড়েন দু’জনে। লাঠি, জুতো নিয়ে তাঁদের উপর চড়াও হন কয়েকশো মানুষ। নদী থেকে পাথর তুলে তাঁদের গাড়ি লক্ষ করে ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। তাতেই মাথা ফেটে যায় খগেনের। গলগল করে রক্ত ঝরতে থাকে। ধাক্কা দেওয়া হয় শঙ্করকেও।
দুই বিজেপি নেতার উপর হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। বিজেপি ইতিমধ্যেই আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে এবং তৃণমূলের দিকেই আঙুল তুলেছে। কিন্তু ঘটনার একদিন পার হয়ে গেলেও অভিযুক্তরা এখনও অধরা।