জানা গিয়েছে, এদিন দুর্গত এলাকায় যাওয়ার সময় আচমকা বিধায়ক ও সাংসদের ওপর হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। মারধর করা হয় সাংসদ, বিধায়কের রক্ষীদেরও।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 6 October 2025 14:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে নাগরাগাটায় (Nagrakata) আক্রান্ত হলেন বিজেপি সাংসদ (BJP MP Khagen Murmu) খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ (MLA Shankar Ghosh)। মারধর করা হয় সাংসদ, বিধায়কের রক্ষীদেরও।
জানা গিয়েছে, এদিন বন্যা দুর্গত এলাকায় যাওয়ার সময় নাগরাকাটায় (Nagrakata) আচমকা বিধায়ক-সাংসদের ওপর হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। গোটা ঘটনায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তবে অভিযোগ উড়িয়ে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন, "এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। সাংসদ-বিধায়ক হিসেবে ওরা ব্যর্থ, তারই ফলে মানুষ ক্ষোভ উগরে দিয়েছে।"
শনিবার রাত থেকেই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে উত্তরবঙ্গে(North Bengal News)। পাহাড় থেকে সমতল—সব জায়গায় ধস, প্লাবন (North Bengal Floods) আর মৃত্যুর মিছিল। ভেঙে গিয়েছে সেতু, কালভার্ট, বহু বাড়িঘর। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, দুর্যোগে অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও বেসরকারি মতে, মৃতের সংখ্যা ২৮।
এমন পরিস্থিতিতে এদিন দুর্গত এলাকায় গিয়েছিলেন বিজেপির সাংসদ ও বিধায়ক। খগেন মুর্মুর গাড়িতেই ছিলেন শঙ্কর। অভিযোগ, নাগরাকাটায় পোঁছতেই তাঁদের দিকে তেড়ে আসে একদল দুষ্কৃতী। বাঁশ, লোহার রড, পাথর দিয়ে মারধর করা হয়। ভাঙচুর করা হয় গাড়িতেও। গুরুতর আঘাত লাগে সাংসদ খগেন মুর্মুর। রক্তে ভেসে যান তিনি। আক্রান্ত হন বিধায়ক শঙ্কর ঘোষও। পরে শঙ্কর বলেন, "পরিকল্পিতভাবে আমাদের প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। চালকের তৎপরতায় দ্রুত এলাকা থেকে বেরিয়ে আসতে পারি।"
ইতিমধ্যে আক্রান্ত সাংসদ-বিধায়ককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সাংসদের শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক। খবর পেয়ে শিলিগুড়ি এয়ারর্পোট থেকে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। অন্যদিকে এ ব্যাপারে দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দিলীপ বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী কার্নিভাল নিয়ে ব্যস্ত, উত্তরের মানুষ ভাসছে। আর সাহায্য করতে গিয়েও আক্রান্ত হলেন আমাদের সাংসদ-বিধায়ক। রাজ্যে যে আইনের শাসন নেই. তা আবারও স্পষ্ট হল।"
সূত্রের খবর, এতিমধ্যে দিল্লি থেকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজ্যের নেতাদের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে।