প্রসঙ্গত, বহিষ্কৃত তৃণমূল যুবনেতা কুন্তল ঘোষের জবানবন্দিতেই প্রথম উঠে আসে মন্ত্রীর নাম। এরপর চন্দ্রনাথের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে একাধিক বড়সড় লেনদেনের হদিস পায় ইডি।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 20 September 2025 14:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন বিপুল সম্পত্তি। সেই সঙ্গে তদন্তে বিস্তর অসহযোগিতার অভিযোগে প্রভাবশালী তত্ত্বে শনিবার রাজ্যের কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাকে (Minister Chandranath Sinha ) সাত দিনের হেফাজতে চেয়ে আবেদন জানাল ইডি (ED)।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে এদিন মন্ত্রীর কাছে বিচারভবনের বিচারকও জানতে চান, ইডি যখন আয়কর রির্টানের তথ্য চেয়েছিল, তখনই কেন তিনি তদন্তকারীদের সেই তথ্য জমা দিলেন না? তদন্তে অসহযোগিতার কারণ কী?
সূত্রের খবর, মন্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়ার সপক্ষে আদালতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেশ করেছে তদন্তকারী সংস্থা। ইডির দাবি, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির (Recruitment Corruption Case) সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন চন্দ্রনাথ। ২০১৬ সালের শেষের দিকে বিপুল অঙ্কের টাকা নগদে নিয়েছিলেন তিনি।
ইডি আদালতে জানায়, ২০২৪ সালে বোলপুরে মন্ত্রীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৪১ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছিল। অভিযোগ, তার নির্দিষ্ট কোনও হিসেব দিতে পারেননি চন্দ্রনাথ। আয়কর রিটার্নও জমা দেননি। তবে গত ৬ অগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মন্ত্রী হিসেব দিয়েছিলেন। কিন্তু উদ্ধার হওয়া টাকার মধ্যে মাত্র ১৯ লক্ষের হিসেব দেখান তিনি।
তদন্তকারীদের দাবি, ওই ১৯ লক্ষ টাকার উৎসও স্পষ্ট নয়। কৃষি কাজ ও রিয়েল এস্টেট থেকে টাকা এসেছে বলে দাবি করলেও তার সপক্ষে কোনও নথি দেখাতে পারেননি মন্ত্রী। ইডির অভিযোগ, শুধু মন্ত্রী নন, তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলের অ্যাকাউন্টেও বিপুল অঙ্কের টাকা জমা হয়েছে।
চার্জশিটের ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পাতায় ইডির দাবি, আয়কর মেটাতে মন্ত্রী ৯০ লক্ষ টাকা জরিমান দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই টাকা এল কোথা থেকে, তার কোনও জবাব দিতে পারেননি তিনি। আয়কর রিটার্ন ও প্রকৃত আয়ের মধ্যে বিস্তর গরমিল ধরা পড়েছে।
প্রসঙ্গত, বহিষ্কৃত তৃণমূল যুবনেতা কুন্তল ঘোষের জবানবন্দিতেই প্রথম উঠে আসে মন্ত্রীর নাম। এরপর চন্দ্রনাথের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে একাধিক বড়সড় লেনদেনের হদিস পায় ইডি।
ইডি-র দাবি, প্রায় ১৫৯ জন প্রার্থীর কাছ থেকে গড়ে ৮ লক্ষ টাকা করে নিয়েছিলেন মন্ত্রী। অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ১২.৭২ কোটি টাকা। কিন্তু এত বিপুল অর্থ কোথায় গেল, তার কোনও উত্তর এখনও মেলেনি।
সূত্রের খবর, শুক্রবার বীরভূমের কিষাণ মাণ্ডিতে গিয়ে মন্ত্রীর সম্পত্তি ও আর্থিক উৎস নিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন তদন্তকারীরা। একাধিক তথ্যও তাঁদের হাতে এসেছে। এখন দেখার, আদালত অন্তর্বর্তী জামিন বহাল রাখে, নাকি মন্ত্রীকে তুলে দেয় ইডির হাতে।