প্রশাসনের লক্ষ্য একটাই—‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’—এই বিশ্বাসকে সামনে রেখে পুণ্যার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল গঙ্গাসাগর মেলা উপহার দেওয়া।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 23 December 2025 13:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গঙ্গাসাগর মেলা শুরু হতে আর হাতে গোনা কয়েক দিন বাকি। আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের গঙ্গাসাগর মেলা ( Gangasagar Mela)। চলতি বছরে কুম্ভ মেলা না থাকায় সাগরতটে এবার রেকর্ডসংখ্যক পুণ্যার্থীর (Record Crowd) সমাগম হতে পারে—এমনই মনে করছে প্রশাসনের। সেই ভিড় সামাল দিতে এবং তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার।
মেলার প্রস্তুতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে সোমবার সাগরদ্বীপে যান রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস রঞ্জন ভূঁইয়া ( Irrigation Minister, Manas Bhunia)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিডিও কানাইয়া কুমার রাও-সহ জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। কচুবেড়িয়া পয়েন্ট ও গঙ্গাসাগর পয়েন্ট—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গিয়ে প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন মন্ত্রী। বিশেষ নজর ছিল মুড়িগঙ্গা নদীতে ড্রেজিংয়ের কাজ এবং অস্থায়ী জেটি নির্মাণের ওপর। আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা শেষে মঙ্গলবার কলকাতার উদ্দেশে ফেরেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে সেচমন্ত্রী জানান, পুণ্যার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে মুড়িগঙ্গা নদীতে ড্রেজিং বা পলি তোলার কাজ চলছে। এর ফলে জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ভেসেল পরিষেবা চালু রাখা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর থাকার জন্য অতিরিক্ত যাত্রীনিবাস ও বাফার জোন তৈরি করা হচ্ছে। নিরাপত্তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও যাতায়াত—সব দিক মাথায় রেখেই প্রস্তুতি করা হচ্ছে। প্রশাসনের লক্ষ্য একটাই—‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’—এই বিশ্বাসকে সামনে রেখে পুণ্যার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল গঙ্গাসাগর মেলা উপহার দেওয়া।