রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata Banerjee) সম্পর্ক দীর্ঘকাল ধরে আলোচনার কেন্দ্রে।

নতুন দায়িত্বে প্রাক্তন পুলিশ কর্তা রণবীর কুমার
শেষ আপডেট: 5 March 2026 21:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস রণবীর কুমারকে ট্রাফিক অ্যান্ড রোড সেফটির অ্যাডভাইজর করা হল। রাজ্যের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার (Former DG Rajeev Kumar), রাজেশ কুমার ও রণবীর কুমার একদিনেই অবসর নিয়েছিলেন। রাজীব কুমার গেলেন রাজ্যসভায় (Rajya Sabha) আর রণ কুমার হলেন ট্রাফিকের অ্যাডভাইজর। এমনটাই বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে নবান্ন (Nabanna)।
রাজ্যে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজে আরও জোর দিতে নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal Govt)। অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্তা রণবীর কুমারকে ট্রাফিক ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে সড়ক নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করতেই অভিজ্ঞ পুলিশ কর্তার পরামর্শকে কাজে লাগাতে চাইছে প্রশাসন।
এদিকে রাজীব কুমারকে নিয়ে এখন নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে। কারণ তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। বৃহস্পতিবারই বিধানসভায় (WB Assembly) গিয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তিনি।
রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata Banerjee) সম্পর্ক দীর্ঘকাল ধরে আলোচনার কেন্দ্রে। বিশেষ করে সারদা ও রোজভ্যালি চিটফান্ড (Rose Valley Chitfund) কেলেঙ্কারির তদন্ত চলাকালীন রাজীব কুমারের পাশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে দাঁড়িয়েছিলেন, তা ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক বেনজির ঘটনা।
সারদা কেলেঙ্কারির তদন্তে সিবিআই (CBI) কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের লাউডন স্ট্রিটের বাসভবনে হানা দিলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরাসরি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। তিনি রাজীব কুমারের বাড়িতে গিয়ে সিবিআই অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং কলকাতার রাজপথে, মেট্রো চ্যানেলে দুদিন ধরে ধর্নায় বসেন। তিনি রাজীব কুমারকে ‘বিশ্বের অন্যতম সেরা অফিসার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।
সিবিআইয়ের আধিকারিকরা রাজীব কুমারের বাড়িতে যাওয়ার পর, কলকাতা পুলিশ সিবিআই আধিকারিকদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রী এটিকে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর আক্রমণ হিসেবে তুলে ধরেন এবং সিবিআই আধিকারিকদের এই পদক্ষেপকে ‘নজিরবিহীন’ বলে বর্ণনা করেন।
রাজীব কুমারকে নিয়ে সিবিআই তদন্তের জট থাকলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার তাঁর ওপর আস্থা রেখেছেন। সারদা তদন্তের জন্য রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) প্রধান হিসেবে তাঁকে নিয়োগ করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে তাঁকে বিধাননগর কমিশনারেটের প্রধান এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার (Kolkata CP) পদে বসানো হয়। সবশেষে, লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তাঁকে রাজ্য পুলিশের ডিজিপি (DGP) পদে নিযুক্ত করা হয়েছিল (যদিও নির্বাচনী বিধি চালু হওয়ার পর কমিশন তাঁকে সরিয়ে দেয়)।
সিবিআই-এর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রাজীব কুমার যখন সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হন, তখন রাজ্য সরকার তাঁর আইনি লড়াইয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার দাবি করেছেন যে, রাজীব কুমারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হেনস্থা করা হচ্ছে।
সারদা কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ টেনে বিজেপির (BJP) বক্তব্য, রাজীব কুমারের কাছে এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা প্রকাশ্যে এলে বড়সড় রাজনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। দাবি, ওই আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছিল এবং সেই কারণেই তাঁকে এই পদে পাঠানো হচ্ছে।