পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সিভি আনন্দ বোস। দিল্লিতে পদত্যাগ পাঠালেন তিনি।

শেষ আপডেট: 5 March 2026 21:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের (WB Governor Resigned) পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সিভি আনন্দ বোস (CV Anand Bose Resigned)। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (President Draupadi Murmu) কাছে পদত্যাগ পাঠালেন তিনি। এই মুহূর্তে তিনি দিল্লিতে রয়েছেন। ঠিক কী কারণে তিনি ইস্তফা দিলেন তার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিকে, দু’দিনের রাজ্য সফরে কাল, শুক্রবারই রাজ্যে আসছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ৬ এবং ৭ মার্চ— এই দু’দিন দার্জিলিং ও কার্শিয়াং সংলগ্ন এলাকায় একাধিক সরকারি ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। রাষ্ট্রপতির এই বঙ্গ সফরের আগে আচমকা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের ইস্তফা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন দোরগোড়ায়। এদিকে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২০ মাস আগেই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দিলেন আনন্দ বোস। যা রাজ্য-রাজনীতিতে জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করেছে রাজভবন সূত্র। দিল্লিতে থাকাকালীনই রাষ্ট্রপতি ভবনে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ইতিমধ্যেই তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।
২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর বাংলার মসনদে বসেছিলেন প্রাক্তন এই আমলা। প্রশাসনিক নিয়মে তাঁর মেয়াদ ছিল ২০২৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু সেই সময়সীমা ছোঁয়ার ঢের আগেই কেন তিনি সরলেন, তা নিয়ে দিল্লির রাজনৈতিক আলোচনা তুঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই পরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যক্তিগত বা অন্য কোনও বিশেষ কারণেই কি এই প্রস্থান, নাকি নেপথ্যে বড় কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে— তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিগত কয়েক মাসে নবান্নের সঙ্গে রাজভবনের সংঘাত এবং বিভিন্ন বিল ঘিরে টানাপড়েনের আবহেই আনন্দ বোসের এই পদত্যাগ বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
আনন্দ বোসের উত্তরসূরি হিসেবে ইতিমধ্যেই আরএন রবির (R.N. Ravi) নাম ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। কিন্তু এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা বা সৌজন্যমূলক পরামর্শ করা হয়নি বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর সাফ দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর চরম আঘাত।
আনন্দ বোসের পদত্যাগের খবরে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইস্তফার প্রকৃত কারণ এখনও ধোঁয়াশায় থাকলেও, তাঁর আশঙ্কা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ কোনও রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে হয়তো রাজভবনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, আনন্দ বোসের এই আচমকা প্রস্থান তাঁকে রীতিমতো স্তম্ভিত করেছে।
প্রথা অনুযায়ী, কোনও রাজ্যে রাজ্যপাল নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার একটি অলিখিত রেওয়াজ বা ‘কনভেনশন’ রয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেই রীতিনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি বলে অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে কেবল জানিয়েছেন যে আর এন রবিকে বাংলার রাজ্যপাল করা হচ্ছে। কিন্তু নিয়ম মেনে আমার সঙ্গে কোনও পরামর্শ করা হয়নি।”
এই ঘটনাকে ভারতীয় সংবিধানের ভাবমূর্তির পরিপন্থী বলে মনে করছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক রীতিনীতি এবং রাজ্যের মর্যাদাকে খর্ব করছে। সমবায়মূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো বা ‘কো-অপারেটিভ ফেডারেলিজম’ বজায় রাখার স্বার্থে কেন্দ্রকে এই ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।