২০১৯ সালে কলকাতার পুলিশ কমিশনার থাকাকালীন এক বহুচর্চিত সারদা কেলেঙ্কারির তদন্তে রাজীব কুমারের নাম আলোচনায় আসে। সেই সময় তাঁর বাসভবনে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার একটি দল পৌঁছলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল।

রাহুল সিনহা
শেষ আপডেট: 5 March 2026 17:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Elections 2026) আগে রাজ্যসভা নির্বাচনের (Rajya Sabha Elections 2026) প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) যে চার জনকে বাংলা থেকে রাজ্যসভায় পাঠানোর জন্য বেছে নিয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন পুলিশ কর্তা রাজীব কুমার (Rajeev Kumar)। এই নাম প্রকাশ্যে আসতেই অতীতের এক বিতর্কিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে শাসক দলকে নিশানা করেছে বিরোধী শিবির, বিশেষ করে বিজেপি (BJP)।
২০১৯ সালে কলকাতার পুলিশ কমিশনার থাকাকালীন এক বহুচর্চিত সারদা কেলেঙ্কারির (Sarada Scam) তদন্তে রাজীব কুমারের নাম আলোচনায় আসে। সেই সময় তাঁর বাসভবনে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার একটি দল পৌঁছলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। ওই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজে ধর্নায় বসেছিলেন। সেই ছবি ও ঘটনাপ্রবাহ এখনও অনেকের মনে স্পষ্ট।
কয়েক বছর পরে আবার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন সেই রাজীব কুমারই (Rajeev Kumar)। এবার তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানোর জন্য প্রার্থী করেছে তৃণমূল। এই সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর থেকেই বিরোধীরা তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে রাজ্যসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন রাহুল সিনহা (Rahul Sinha)। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে কটাক্ষ করেন। বিশেষ করে রাজীব কুমারকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করেন।
রাহুল সিনহার দাবি, রাজীব কুমারের কাছে এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা প্রকাশ্যে এলে বড়সড় রাজনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তাঁর অভিযোগ, সেই কারণেই তাঁকে গুরুত্ব দিতে বাধ্য হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজীব কুমারের কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রায় একই সুর শোনা গেছে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বক্তব্যেও। এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, অতীতের ঘটনাকে সামনে রেখে রাজীব কুমারকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, ওই আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছিল এবং সেই কারণেই তাঁকে এই পদে পাঠানো হচ্ছে।
এই বিতর্কের মধ্যেই আবার আলোচনায় এসেছে রাজীব কুমারের ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবন। উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ে তাঁর জন্ম। দেশের অন্যতম সেরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়াশোনা করার পর তিনি প্রশাসনিক পরিষেবার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
১৯৮৯ সালে তিনি ভারতীয় পুলিশ পরিষেবায় যোগ দেন এবং পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারে কাজ শুরু করেন। ২০১১ সালে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে তিনি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং ধীরে ধীরে রাজ্যের শাসক নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ আধিকারিকদের মধ্যে অন্যতম হয়ে ওঠেন।
এবার তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক তরজা যে আরও তীব্র হবে, তা বলাই যায়।