তৃণমূল অবশ্য জীবনের হুঁশিয়ারিকে পাত্তা দিতে নারাজ। দলের মুখপাত্র পার্থপ্রতিম রায়ের কটাক্ষ, “জীবনের মন্তব্যের কোনও গুরুত্ব নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোচবিহার সফর নিয়ে মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস তুঙ্গে। বিরাট ভিড়ই তার প্রমাণ দেবে।”

কেএলও নেতা জীবন সিং।
শেষ আপডেট: 4 December 2025 20:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী ৯ ডিসেম্বর কোচবিহারে সভা করার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মুখ্যমন্ত্রীর ওই সভা বয়কট (boycott Chief Minister's meeting in Cooch Behar) করার জন্য এবার রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষজনের (Rajbangshis) উদ্দেশে গোপন ডেরা থেকে ভিডিও বার্তা পাঠালেন কেএলও নেতা জীবন সিং (KLO leader Jiban Singh।
ভিডিও বার্তায় জীবনের অভিযোগ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৃথক কামতাপুর রাজ্যের বিরোধিতা করেন। তাই রাজবংশী সম্প্রদায়ের কেউ তাঁর সভায় যাবেন না।”
তৃণমূল অবশ্য জীবনের হুঁশিয়ারিকে পাত্তা দিতে নারাজ। দলের মুখপাত্র পার্থপ্রতিম রায়ের কটাক্ষ, “জীবনের মন্তব্যের কোনও গুরুত্ব নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোচবিহার সফর নিয়ে মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস তুঙ্গে। বিরাট ভিড়ই তার প্রমাণ দেবে।”
কামতাপুরি স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই সরব জীবন। একদা ভুটানের জঙ্গলে সেনা অভিযানে সংগঠনের বড় ধাক্কার পরও তাঁর নাগাল মেলেনি। বহু সঙ্গী আত্মসমর্পণ করলেও তিনি আজও অধরা। তাঁর এই হুঁশিয়ারি ঘিরে জেলার রাজনৈতিক মহলে তো বটেই জনমানসেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
যদিও তৃণমূলের মুখপাত্র পার্থপ্রতিম রায় বলেন, জীবন জনবিচ্ছিন্ন, রাজবংশীদের মধ্যে ওর কোনও গুরুত্ব নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন. রাজবংশী ও কামতাপুরী ভাষার স্বীকৃতি, আত্মসমর্পণকারী কেএলও সদস্যদের হোমগার্ডে নিয়োগ, ভাষা একাডেমি গঠন, মনীষী পঞ্চানন বর্মনের নামে বিশ্ববিদ্যালয়—সবই মমতার উদ্যোগে বাস্তবায়িত হয়েছে।
১৯৯৫ সালে তৈরি হওয়া কেএলও একসময় কামতাপুরের স্বপ্নে জঙ্গলে অস্ত্র হাতে নেমেছিল। আজ সেই সংগঠন ভাঙা–চোরা। তবু নেতা জীবনের একটি ভিডিও বার্তায় আবার আলোড়ন ফেলল উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে। মুখ্যমন্ত্রীর কোচবিহারের সভায় আদৌ এর প্রভাব পড়ে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।